১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ইনসাফ পেয়েছি’, অপারেশন সিঁদুরে খুশি নিহত আদিলের বাবা-দাদা

শ্রীনগর: সৈয়দ আদিল হুসেন। পহেলগাঁওয়ের বাসিন্দা পেশায় ছিলেন ঘোড়া সহিস। পর্যটকদের ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসীরা যখন পর্যটকদের গুলি করে খুন করছিল। তখন নিজের জীবন বাজি রেখে পর্যটকদের বাঁচাতে জঙ্গির উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আদিল। ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বন্দুক। কিন্তু, পেরে ওঠেননি। জঙ্গিদের নিরস্ত্র করার দুঃসাহস দেখানোর পরিণাম হিসাবে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় সৈয়দ আদিল হুসেন শাহের শরীর। আজ সেই আদিলের পরিবার পেলেন ‘ইনসাফ’। বুধবার আদিলের বাবা বললেন, ‘আমি খুশি যে সেনাবাহিনী, সরকার ছেলের মৃত্যুর বদলা নিয়েছে। পর্যটকদের হত্যারও বদলা নিয়েছে। আর যেন কখনও এমন ঘটনা না হয়। মানুষ হত্যা কখনও মানবতার নিদর্শন হতে পারে না। কোনও ধর্মে কোথাও একথা লেখা নেই।’

উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ গিয়েছিল নিরীহ ২৬ জন নাগরিকের। নৃশংস হত্যাকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। জঙ্গিরা বেছে বেছে হিন্দুদের গুলি করে খুন করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। মৃতদের তালিকায় আদিল ছিলেন একমাত্র মুসলিম। পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: গাছের পাতা ও আংটিতে কাবার ছবি এঁকে এশিয়া এবং ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম কাশ্মীরি যুবকের

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ মৃত্যুর বদলা নিতে বুধবার গভীর রাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯ জায়গায় জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। এই হামলায় বাহওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদ, মুরাক্কায় লস্কর-ই-তৈবা ও হিজবুল মুজাহিদিনর সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রত্যাঘাতের পর আদিলের বাবা বলছেন ‘ইনসাফ’ পেয়েছেন।  হায়দর শাহের কথায়, ‘২৬ জনকে খুন করেছিল ওরা। আজ তারই বদলা নেওয়া হয়েছে। আমরা খুশি। ফৌজিরা এর বদলা নিয়েছেন। সরকার এর বদলা নিয়েছে। আমি খুশি। আমার মোদীর উপর ভরসা ছিল। আজ আমরা ইনসাফ পেলাম। আজ রাতে শান্তির ঘুম ঘুমোবো।’

আদিলের দাদা সৈয়দ নওশাদের বক্তব্য, দুঃখের মধ্যেও এই বদলা নেওয়ার ঘটনায় আজ তিনি খুশি। সাধারণ, নিরীহ লোকেদের যেভাবে মারা হয়েছিল, তার যে এভাবে বদলা নেওয়া হয়েছে, তাতে তারা খুশি। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপে তিনি যে গর্ব অনুভব করছেন, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর যে বদলা নেওয়া হয়েছে, সেকথাও বারবার বলেছেন তিনি।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

দুর্নীতি দমন আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিভক্ত মত; মামলা যাবে বৃহত্তর বেঞ্চে

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

‘ইনসাফ পেয়েছি’, অপারেশন সিঁদুরে খুশি নিহত আদিলের বাবা-দাদা

আপডেট : ৭ মে ২০২৫, বুধবার

শ্রীনগর: সৈয়দ আদিল হুসেন। পহেলগাঁওয়ের বাসিন্দা পেশায় ছিলেন ঘোড়া সহিস। পর্যটকদের ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসীরা যখন পর্যটকদের গুলি করে খুন করছিল। তখন নিজের জীবন বাজি রেখে পর্যটকদের বাঁচাতে জঙ্গির উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আদিল। ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বন্দুক। কিন্তু, পেরে ওঠেননি। জঙ্গিদের নিরস্ত্র করার দুঃসাহস দেখানোর পরিণাম হিসাবে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় সৈয়দ আদিল হুসেন শাহের শরীর। আজ সেই আদিলের পরিবার পেলেন ‘ইনসাফ’। বুধবার আদিলের বাবা বললেন, ‘আমি খুশি যে সেনাবাহিনী, সরকার ছেলের মৃত্যুর বদলা নিয়েছে। পর্যটকদের হত্যারও বদলা নিয়েছে। আর যেন কখনও এমন ঘটনা না হয়। মানুষ হত্যা কখনও মানবতার নিদর্শন হতে পারে না। কোনও ধর্মে কোথাও একথা লেখা নেই।’

উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ গিয়েছিল নিরীহ ২৬ জন নাগরিকের। নৃশংস হত্যাকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। জঙ্গিরা বেছে বেছে হিন্দুদের গুলি করে খুন করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। মৃতদের তালিকায় আদিল ছিলেন একমাত্র মুসলিম। পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: গাছের পাতা ও আংটিতে কাবার ছবি এঁকে এশিয়া এবং ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম কাশ্মীরি যুবকের

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ মৃত্যুর বদলা নিতে বুধবার গভীর রাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯ জায়গায় জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। এই হামলায় বাহওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদ, মুরাক্কায় লস্কর-ই-তৈবা ও হিজবুল মুজাহিদিনর সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রত্যাঘাতের পর আদিলের বাবা বলছেন ‘ইনসাফ’ পেয়েছেন।  হায়দর শাহের কথায়, ‘২৬ জনকে খুন করেছিল ওরা। আজ তারই বদলা নেওয়া হয়েছে। আমরা খুশি। ফৌজিরা এর বদলা নিয়েছেন। সরকার এর বদলা নিয়েছে। আমি খুশি। আমার মোদীর উপর ভরসা ছিল। আজ আমরা ইনসাফ পেলাম। আজ রাতে শান্তির ঘুম ঘুমোবো।’

আদিলের দাদা সৈয়দ নওশাদের বক্তব্য, দুঃখের মধ্যেও এই বদলা নেওয়ার ঘটনায় আজ তিনি খুশি। সাধারণ, নিরীহ লোকেদের যেভাবে মারা হয়েছিল, তার যে এভাবে বদলা নেওয়া হয়েছে, তাতে তারা খুশি। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপে তিনি যে গর্ব অনুভব করছেন, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর যে বদলা নেওয়া হয়েছে, সেকথাও বারবার বলেছেন তিনি।