প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের এক বছর পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ ত্যাগের প্রক্রিয়া বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলো। তবে সংস্থা ছাড়ার সময় প্রায় ২৬ কোটি মার্কিন ডলার বকেয়া রেখে যাওয়ায় এই প্রস্থান ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও জনসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওর সঙ্গে সব ধরনের অর্থায়ন বন্ধ করা হয়েছে এবং সংস্থার সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন কার্যালয় থেকে মার্কিন কর্মীদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে ডব্লিউএইচওর অন্যতম বৃহৎ দাতা দেশ হয়েও যুক্তরাষ্ট্র আর কোনও নীতিনির্ধারক বোর্ড বা কার্যকরী আলোচনায় অংশ নেবে না।

ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যর্থতা, কাঠামোগত সংস্কারের অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করেছে ডব্লিউএইচও। যদিও ১৯৪৮ সালের সংসদীয় প্রস্তাব অনুযায়ী সংস্থা ছাড়তে হলে বকেয়া পরিশোধের বিধান রয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের দাবি—আইনগতভাবে তারা এতে বাধ্য নয়।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তে এইচআইভি, পোলিও ও ইবোলার মতো রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থানকে অনেকেই এক নজিরবিহীন ও বিপজ্জনক মোড় বলে মনে করছেন।