পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ফর্ম ৬ জমা দিয়ে অন্য বহিরাগতদের এরাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম তোলা হচ্ছে। এমনই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এই অভিযোগকে ঘিরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলপন্থী বিএলও কর্মীরা। পরে বিজেপি কর্মীরা সেখানে পৌঁছলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।  

তৃণমূল সূত্রের খবর, সিইও দফতরে ফর্ম ৬ জমা দিতে এসেছিলেন এক যুবক। তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তৃণমূলপন্থী বিএলওরা।

এই অভিযোগ তুলে তাঁরা সিইও অফিসের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। রাস্তায় বসে স্লোগান শুরু হতেই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যায় বিজেপি কর্মীরাও, এবং পাল্টা মারধরের অভিযোগ তুলে তারাও বিক্ষোভে নামেন। দুই পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।

পুলিশ সূত্রের খবর, এদিন দুপুরে আচমকাই স্ট্র্যান্ড রোডের নতুন সিইও অফিসের সামনে জড়ো হন তৃণমূলপন্থী কয়েকজন বিএলও।

তাঁদের দাবি, পূর্ব মেদিনীপুরের এক যুবক প্লাস্টিকের ব্যাগে করে একগুচ্ছ ফর্ম ৬ জমা দিতে এসেছিলেন। তাঁকে ঘিরে ধরে টানাহেঁচড়া শুরু হয়। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি বগলদাবা করে বেশ কিছু কাগজপত্র নিয়ে দফতরে প্রবেশ করছেন। যদিও সেই কাগজগুলি আদৌ ফর্ম ৬ কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি।

এই ঘটনার জেরে যখন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা বিক্ষোভে নামেন, তখনই সেখানে হাজির হন বিজেপি কর্মীরা। চৌরঙ্গীর বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠকের নেতৃত্বে তাঁরা অভিযোগ তোলেন,  তাঁদের এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে।

যদিও সেই অভিযোগে নির্দিষ্ট করে কারও নাম সামনে আসেনি। তবুও সিইও অফিসের সামনে বিজেপির পক্ষ থেকেও বিক্ষোভ শুরু হয় এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। একই সময় কিছুটা দূরে অবস্থান বিক্ষোভে বসে থাকেন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা।

দু’পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থানে দ্রুত উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে পুলিশ। গার্ডরেল বসিয়ে দুই পক্ষকে আলাদা রাখার চেষ্টা হলেও, কয়েকজন তা ভেঙে বা টপকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষই দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।