পুবের কলম প্রতিবেদক: সমকামি বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি  দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে চলছে বিতর্ক। সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল সমকামি বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।

এই ধরনের বিবাহ ভারতের প্রচলিত পরিবারের ধারণার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় শুনানি চলাকালীন ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, একজন পুরুষ এবং একজন মহিলার ধারণা শুধুমাত্র যৌনাঙ্গের ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ হয় না।

ঠিক এই সময় সমকামিদের নিয়ে তৈরি হওয়া ছবি তৈরির পাশাপাশি দেখানো শুরু হয়েছে। এই ছবির মধ্যে রয়েছে ‘গে ইন্ডিয়া  ম্যাট্রিমনি’।

মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতার খ্যাতনামা স্কটিশ চার্চ কলেজে এই ছবি প্রদর্শন হওয়ার কথা ছিল দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ।  এ দিন সকালে সেই ছবি প্রদর্শন বন্ধ করল স্কটিশ চার্চ কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এই প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েকদিন ধরে প্রচার চললেও শেষ মুহূর্তে এসে তা বাতিল হয়ে গেল কলেজ কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞায়। কোনও নোটিশ ছাড়া কেন ছবির প্রদর্শনী বাতিল করা হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

প্রদর্শনীতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল স্কটিশ চার্চ কলেজের মনোবিদ্যা, ইতিহাস, দর্শন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগেরও। এ দিন এমএল ভৌমিক অডিটোরিয়ামে দুপুর ১.৩০ থেকে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল।
বিষয়টি নিয়ে ‘গে ইন্ডিয়া ম্যাট্রমনি’র পরিচালক দেবলীনা মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দুপুরে ছবি দেখানোর কথা। হঠাৎ সকালে ফোন এলো, সব বাতিল করতে হবে।

এই প্রসঙ্গে এ দিন কলেজের প্রিন্সিপাল  মধুমঞ্জরি মণ্ডল ‘পুবের কলম’কে জানান, বিভিন্ন প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য কলেজে একটি বিশেষ কমিটি রয়েছে। সেই কমিটি বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে। ওই কমিটি এই ছবি প্রদর্শন করার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য এই ছবি প্রদর্শন আপাতত বন্ধ করা হয়েছে।

দেবলীনা মজুমদারের ছবি ‘গে ইন্ডিয়া ম্যাট্রিমনি’র প্রদর্শনী এবং তার পরবর্তী আলোচনায় এ দিন যোগ দেওয়ার কথা ছিল ‘সাফো ফর ইকুয়ালিটি’র দুই সদস্য মীনাক্ষী সান্যাল এবং কোয়েল ঘোষের।