উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে অযোধ্যার রাম মন্দির দর্শনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। আগামী ১২ নভেম্বর স্ত্রী ডিম্পল যাদব ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাঁর অযোধ্যা যাওয়ার কথা। সমাজবাদী পার্টির নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী তেজনারায়ণ পাণ্ডে এই সফরের কথা জানিয়েছেন। অখিলেশের এই পরিকল্পনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তাঁকে কটাক্ষ করে সরব হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রাম মন্দিরে রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম মন্দির দর্শনে যাওয়ার কথা অখিলেশের। প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি তাতে যোগ দেননি। একইভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। সেই সময় বিরোধী নেতাদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিল বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা।

তার আগে অখিলেশের অযোধ্যা সফরের পরিকল্পনাকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অখিলেশের সম্ভাব্য সফর নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর বক্তব্য, অতীতে যারা রাম মন্দির নির্মাণে বাধা দিয়েছিল এবং রামভক্তদের উপর লাঠিচার্জ করেছিল, অযোধ্যায় যেতে হলে তাদের আগে ক্ষমা চাইতে হবে।

শনিবার অযোধ্যার দীপোৎসবের মঞ্চ থেকে অখিলেশকে নিশানা করে যোগী বলেন, “যারা একসময় অযোধ্যাকে রক্তাক্ত করেছিল, আজ তাঁদেরও অযোধ্যার কথা মনে পড়ছে। ওরা আসুক অযোধ্যায়, কিন্তু আগে ওদের রামভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

যে সব সাধুসন্তদের ওরা রক্তাক্ত করেছে, তাঁদের কাছেও ক্ষমা চাইতে হবে।” যোগীর আরও কটাক্ষ, “ভগবান রাম বড় দয়ালু। তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দেন। ঈশ্বর ক্ষমতার ঔদ্ধত্য ভুলিয়ে দিতে বেশি সময় নেন না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যাদব-মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের বাইরে নিজেদের সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে সমাজবাদী পার্টি। ব্রাহ্মণ ও দলিত ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই অখিলেশের অযোধ্যা সফরের পরিকল্পনা হতে পারে। অন্যদিকে, সফরের আগেই নব্বইয়ের দশকে মুলায়ম সিং যাদবের মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় করসেবকদের উপর পুলিশের পদক্ষেপের প্রসঙ্গ সামনে এনে অখিলেশকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতে চাইছেন যোগী আদিত্যনাথ।