পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, উৎসবের আনন্দে কোনও খামতি নেই, অথচ দীপাবলিতে আকাশে ওঠে না বাজির শব্দ। পাখিদের নিরাপত্তার কথা ভেবে টানা ২০ বছর ধরে বাজিবিহীন দীপাবলি পালন করে আসছেন তামিলনাড়ুর একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। ইরোড জেলার ভেল্লোডে পাখিরালয়ের আশপাশের এক ডজনেরও বেশি গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
জানা যায়, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাখিদের প্রজননের মরশুমে এই জলাভূমিতে ভিড় জমায় দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পাখি। ২৪০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই পাখিরালয়ের মধ্যে রয়েছে ৫০ একরের একটি জলাশয়, যার গভীরতা ৩০ ফুট পর্যন্ত।
মূলত লোয়ার ভবানী প্রকল্পের খাল থেকে চুঁইয়ে আসা জল এবং বর্ষার জলেই জলাশয়টি পুষ্ট হয়।আরও পড়ুন:
এখানে আসে পেইন্টেড স্টর্ক, এশিয়ান ওপেনবিল, ব্ল্যাক-হেডেড আইবিস, লিটল কর্মোর্যান্ট ও গ্রে হেরনের মতো পাখি। পাশাপাশি সাইবেরিয়া, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকেও পরিযায়ী পাখিরা আসে। তাদের মধ্যে রয়েছে পেলিক্যান, স্যান্ডপাইপার, ক্যাস্পিয়ান টার্ন ও ব্ল্যাক-নেকড স্টর্ক। জলাশয়ে মাছ খেয়ে বাসা বাঁধে, বাচ্চা বড় করে ফের পাড়ি দেয় নিজেদের গন্তব্যে।
বাজির শব্দ ও ধোঁয়ায় পাখিদের প্রজনন যাতে ব্যাহত না হয়, সেই ভাবনা থেকেই মেট্টুপালায়ম, পুঙ্গাম্বাডি ও এল্লাপালায়ম-সহ আশপাশের গ্রামের মানুষ ২০ বছর আগে বাজি না পোড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।আরও পড়ুন:
স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা জানিয়েছেন, পাখিদের ভয় না দেখিয়ে তাদের নিরাপদে বাঁচতে দিতেই তাঁরা স্বেচ্ছায় বাজির আনন্দ ত্যাগ করেছেন। তবে উৎসবের আনন্দে ভাটা পড়েনি। নতুন পোশাক পরা, মিষ্টি তৈরি-সহ ঐতিহ্য মেনেই দীপাবলি পালন করেন তাঁরা। চেল্লাপালায়ম, কুথাপালায়ম, ভাদাগালপুদুর ও কালারপালায়মের বাসিন্দারাও একইভাবে উৎসব পালন করেন। কল্পনার কথায়, এত বিপুল সংখ্যায় পাখিদের আসতে দেখা চোখের জন্য এক অপূর্ব আনন্দ।