উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় :  রাজ্যজুড়ে ভুয়ো চিকিৎসকদের চিহ্নিত করতে এবার তৎপর স্বাস্থ্য দপ্তর। চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন যাচাইয়ের নির্দেশের মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। একটি ওষুধের দোকানে বেআইনিভাবে প্রসূতির অস্ত্রোপচার করার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।আর সেই অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হল ওই প্রসূতির। ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রশাসনের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানটি সিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আজুবা শেখ নামে ওই প্রসূতি বাড়িতেই সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু সন্তান প্রসবের পর শারীরিক কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পরিবারের লোকজন ক্যানিংয়ের গোলাবাড়ি সংলগ্ন একটি ওষুধের দোকানে নিয়ে যান। অভিযোগ, ওই দোকানেই চিকিৎসার নামে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপরই শুরু হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।
পরিস্থিতি ক্রমশ আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে তাঁকে তড়িঘড়ি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।হাসপাতাল সূত্রে খবর, হাইপোভোলেমিক শক এবং মাল্টি অর্গান ফেলিওরের কারণে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে ডেথ সার্টিফিকেটে উল্লেখ রয়েছে।এই ঘটনার খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দপ্তর।
স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানে পরিদর্শনে যায়। অভিযোগ, অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের দোকানের আড়ালে সেখানে বেআইনিভাবে অস্ত্রোপচারের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে অভিযানে নামে ক্যানিং থানার পুলিশ।ঘটনায় অভিযুক্ত পনূর আলম শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানটি সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।রাজ্যজুড়ে যখন ভুয়ো চিকিৎসক এবং বেআইনি চিকিৎসা পরিষেবার বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে, তখন ক্যানিংয়ের এই ঘটনা স্বাস্থ্য পরিষেবার নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।