পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও পদযাত্রা’ এবার পৌঁছল কৃষ্ণনগরে। বুধবার কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড়ে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বিজেপি। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দেশের অখণ্ডতা ও সংহতি রক্ষার দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে তথাকথিত ‘ককরোচ পার্টি’র নেতাদের কুশপুতুল এবং আরশোলার প্রতীকী মূর্তি দাহ করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
আরও পড়ুন:
সমাবেশ থেকে পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন শমীক ভট্টাচার্য।
তাঁর অভিযোগ, পরিবারতন্ত্র থেকেই দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের জন্ম হয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি, বিদেশি মদতে দেশের মধ্যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।আরও পড়ুন:
‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর প্রসঙ্গ তুলে শমীক বলেন, কিছু শক্তি সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী বলে দাবি করে তাঁর মন্তব্য, “ভারতের গণতন্ত্রের ভিত যথেষ্ট গভীর।
কোনওভাবেই মবোক্রেসি বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার শাসন গণতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না।”আরও পড়ুন:
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাম ও কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী শক্তি হিসেবে বাম ও কংগ্রেস কার্যত প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে তারা নিজেদের সঁপে দিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলও জনসমর্থন হারিয়ে রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে বলেও মন্তব্য করেন শমীক। তাঁর মতে, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বাংলার মানুষ বোমা-বারুদের রাজনীতি চান না, বরং রাজ্যে শিল্প, কলকারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ চান।
আরও পড়ুন:
রাজ্যে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় বহু যুবককে কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন:
কৃষ্ণনগরের এই সমাবেশ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে সাধারণ মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।