উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : ধান কাটার পর দীর্ঘদিন পতিত অবস্থায় পড়ে থাকা জমিকে চাষের আওতায় এনে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিল নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। কাপাস ক্রান্তি প্রকল্পের আওতায় ধান পরবর্তী পতিত জমিতে তুলা চাষের সম্ভাবনা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে দু’দিনের ব্লকস্তরীয় প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়।বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার নিমপীঠ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি, জয়নগর১, জয়নগর-২ এবং মথুরাপুর-১ ব্লকের মোট ৩০ জন কৃষক এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রধান ড. চন্দন কুমার মণ্ডল, শস্য সুরক্ষা বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. প্রবীর কুমার গড়াই, কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. দীপক কুমার রায় এবং শস্য বিজ্ঞান বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. সোমনাথ সরদার।প্রশিক্ষণ শিবিরে সুন্দরবন অঞ্চলে ধান কাটার পর দীর্ঘদিন পতিত থাকা জমিতে তুলা চাষের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উন্নতমানের তুলার বীজ নির্বাচন, জমি তৈরি, বীজ বপন, সার ও সেচের সঠিক ব্যবহার, রোগপোকা নিয়ন্ত্রণ এবং ফসল সংগ্রহের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তুলা চাষের উৎপাদন সম্ভাবনা, বাজার জাতকরণ, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য এবং আর্থিক লাভের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকায় ধান কাটার পর বহু জমি দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। সেই জমিতে তুলা চাষ করা গেলে একদিকে যেমন জমির উৎপাদনশীলতা বাড়বে, অন্যদিকে একফসলি জমিকে বহুফসলি ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষকদের অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বার্ষিক আয়ও বাড়তে পারে।এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে ধান পরবর্তী পতিত জমিতে তুলা চাষের আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়বে বলে আশাবাদী আয়োজকরা। কাপাস ক্রান্তি প্রকল্পের হাত ধরে সুন্দরবন অঞ্চলে তুলা চাষের সম্প্রসারণ এবং কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।