যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। কংগ্রেসের দুই কক্ষ - প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং প্রেসিডেন্টকে ফের অভিশংসনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন ট্রাম্প। তাঁর হুঁশিয়ারি, কোনও যুক্তি ছাড়াই তাঁকে অভিশংসনের চেষ্টা করলে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব, তদন্তের জন্য নথি তলব এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক লেনদেন, অভিবাসন নীতি, জেফ্রি এপস্টেইন তদন্তে প্রশাসনের ভূমিকা এবং কর্পোরেট দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পারে তারা। ফলে আগামী দিনে হোয়াইট হাউসের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে প্রথম দফার শাসনামলে ২০১৯ ও ২০২১ সালে দুবার অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। প্রথমবার ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয়বার, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় সমর্থকদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে অভিশংসিত করা হয়। তবে দুবারই সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি।

এবারও প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলেও ট্রাম্পকে পদ থেকে সরাতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্পের অপসারণ নিশ্চিত নয়। নতুন কংগ্রেসের কার্যকাল শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি।

এরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাত কোন দিকে এগোয়, তা স্পষ্ট হবে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় তিনি ফের অভিশংসিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন না। তাঁর কথায়, “একটুও না।” তিনি দাবি করেন, কোনও কারণ ছাড়াই অভিশংসনের চেষ্টা করা হলে তা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্যই ধ্বংসাত্মক হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তবে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিলেও প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়া হলে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।