পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: প্যারাগুয়েতে অন্যতম বৃহৎ ব্যাঙ্ক ‘উয়েনো ব্যাঙ্ক’-এর পতনের জেরে দেশজুড়ে চরম আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। মূলধনের পরিমাণ আইনি ন্যূনতম সীমার অর্ধেকের নিচে নেমে যাওয়ায় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ওই ডিজিটাল ব্যাঙ্কটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। এর ফলে ব্যাঙ্কটির প্রায় ২৮ লক্ষ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হয়ে পড়েছে। প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই এই ব্যাঙ্কের গ্রাহক।
সাধারণ মানুষের জমানো টাকার পাশাপাশি পেনশনের টাকাও এই ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টেই আসত। আচমকা সমস্ত লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজেদের সঞ্চয় হারানোর আশঙ্কায় রাজধানী আসানসিয়নের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষুব্ধ মানুষ।আর্থিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে প্রবল রাজনৈতিক ডামাডোল শুরু হয়েছে। ব্যাঙ্কটির মালিকানা থাকা কর্পোরেট সংস্থা ‘গ্রুপো ভাসকুয়েজ’-এর সঙ্গে দেশের প্রেসিডেন্ট স্যান্টিয়াগো পেনিয়ার পুরনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরেই এবার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিরোধী আইনপ্রণেতারা। অন্যদিকে, স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান কার্লোস কারভালো পদত্যাগ করেছেন। তিনি এর আগে উয়েনো ব্যাঙ্কের শীর্ষ পদে ছিলেন। এই অতীত সম্পর্কের জেরে খোদ প্রেসিডেন্ট পেনিয়াই তাঁকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন।
দেশজুড়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভ ও আতঙ্কের আবহে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানিয়েছেন, গ্রাহকরা যাতে তাঁদের ন্যায্য জমানো টাকা দ্রুত ফেরত পান, তা নিশ্চিত করতে খুব তাড়াতাড়ি নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।