পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গত পাঁচ মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চার্চ, প্রার্থনা সভা ও উপাসনা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কলকাতায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করল বিভিন্ন খ্রিষ্টীয় সংগঠন ও প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার ধর্মতলার রানী রাসমণি এভিনিউ-এর প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন কলকাতার আর্চবিশপ, অল ইন্ডিয়া খ্রিষ্টান কাউন্সিল এবং ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ চার্চেস-এর সভাপতি আর্চবিশপ জোসেফ ডি’সুজা, বিশপ শ্যামল বোস, বিশপ নির্মল গোমস, বিশপ সুবোধ মণ্ডল, ওড়িশার ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ব্যাপটিস্ট চার্চেস-এর রেভারেন্ড সমরেশ নায়েক, বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা (বিসিপি)-র রাজ্য সম্পাদক হেরোদ মল্লিক সহ মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও ভিন রাজ্যের চার্চ-এর প্রতিনিধিরা।ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ চার্চেস-এর সভাপতি আর্চবিশপ জোসেফ ডি’সুজা বলেন, তআমরা কলকাতায় একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করি। আমরা এই সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই।

ঘৃণা ও হিংসা দূরে রেখে শান্তি ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে হবে।দউপস্থিত অন্যান্য প্রতিনিধিরাও ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দেন। তাঁরা বলেন, ঘৃণার ‘বিষ’ ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে সব মানুষকে। শান্তি ও উন্নয়ন এককভাবে হয় না, সকলকে নিয়েই সম্ভব।
এক বিবৃতিতে বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা (বিসিপি) জানিয়েছে, মোট ৪৮টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি ক্ষেত্রে আক্রান্তদের এফআইআর করার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। মাত্র ১৬টি ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পেরেছেন। আক্রান্ত ৪৮টি চার্চের মধ্যে ৭টি মূলধারার মণ্ডলীর, যার মধ্যে ৬টি ক্যাথলিক এবং ১টি চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়া (সিএনআই)।
‘জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ’ অভিযোগ প্রসঙ্গে বিসিপি-র অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে ‘জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ’-এর মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ প্রার্থনা সভাগুলিকে বেআইনি ধর্মান্তরকরণের অনুষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সত্যতা উন্মোচনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বারবার আবেদন করা হলেও তা উপেক্ষিতই থেকে গেছে। অন্যদিকে আইন হাতে তুলে নেওয়া দুষ্কৃতীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রতি রবিবার এলেই নতুন আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। সামনে বড়দিনের মরশুম, আর এখন থেকেই সম্প্রদায়ের মনে সংঘাত আরও বাড়ার উৎকণ্ঠা দানা বাঁধছে।