পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে আলু চাষিরা চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে এবার কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়ায় আয়োজিত এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে ভিনরাজ্যে আলু রপ্তানিতে আর কোনও বাধা থাকবে না। গাড়ি বা ট্রেনে আলু পাঠালে কুইন্টাল পিছু ৫০ টাকা ভরতুকি দেবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি আলুকে 'প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা' যোজনার আওতায় এনে তার প্রিমিয়ামের অংশটিও রাজ্য সরকার মেটাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিন পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে আলু অতিরিক্ত উৎপাদন হলে ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম বা উত্তরপ্রদেশে পাঠানোর সময় রাজ্যের সীমানায় কৃষকদের গাড়ি আটকে দেওয়া হত, যার ফলে তাঁরা ফসলের দাম পেতেন না এবং আলু নষ্ট হত।

তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, এবার থেকে কোনও আলু চাষির গাড়িকে সীমানায় আটকানো যাবে না। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, আলুর প্রতি কুইন্টালে ১১২০ টাকা ফি বন্ড মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারদর এর নিচে নামলে সেই ক্ষতির ফারাক রাজ্য সরকার মেটাবে। কালোবাজারি রুখতেও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, কালোবাজারির কোনও অভিযোগ পেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যে মোট ১৪০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। যার মধ্যে ৭৫ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি আলু হিমঘরগুলিতে মজুত রাখা হয়েছিল এবং এখনও পর্যন্ত ৪৮ লক্ষ মেট্রিক টন আলু সেখান থেকে বেরিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, অবশিষ্ট ২৭ লক্ষ মেট্রিক টন আলু আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে হিমঘর থেকে বের করে নেওয়া হবে।
এদিন পুরশুড়ার সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী 'কিষাণ সম্মান নিধি' প্রকল্পের সূচনা করেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সহায়তার টাকা পৌঁছে যায়। বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতি অনুযায়ী ৯০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বন্যায় বিপর্যস্ত মালদহের ভুতনির চরের ১০ হাজার ৭৫০ জন কৃষককে বীজ দেওয়া হচ্ছে এবং ৪ লক্ষ কৃষককে বিদ্যুতের বিলে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে ভরতুকি প্রদান করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যের মোট ৪৬ লক্ষ কৃষককেই এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।