পুবের কলম, নয়াদিল্লি: দেশে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশ কর্তৃক কেবল আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের সময় থেকেই নয়, বরং একজন নাগরিককে আটক করার মুহূর্ত থেকেই সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার নির্দিষ্ট সময়সীমা গণনা শুরু হবে। ‘আটক’ ও ‘গ্রেফতারের’ মধ্যে কোনো কৃত্রিম ফারাক তৈরি করা সম্পূর্ণভাবে অসংবিধানিক এবং আইনের চোখে অগ্রহণযোগ্য। বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, "আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের সময় থেকে ২৪ ঘণ্টা গণনা শুরু হবে—এই দৃষ্টিভঙ্গি ভারতীয় সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদ এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৫৬ নম্বর ধারার সরাসরি বিরোধী।

"

তদন্তের অজুহাতে অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, আটক করার সময় থেকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ভ্রমণের সময়টুকু লাগে, কেবল সেটুকুই ছাড় হিসেবে গণ্য হতে পারে। তল্লাশির অজুহাতে একজন নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করে রাখা অনুচ্ছেদ ২২(২)-এর পরিপন্থী। আদালতের বক্তব্য, সংবিধানে ‘আটক’ ও ‘গ্রেফতার’ শব্দ দুটিকে যৌথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। সংবিধান এমন কোনো ‘আটক’কে স্বীকৃতি দেয় না যা ‘গ্রেফতার’ থেকে আলাদা।

স্বল্প সময়ের জন্য কাউকে আটকে রাখা কোনো গ্রেফতার নয়—এমন যুক্তি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মৌলিক অধিকারকে কখনোই সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা যায় না। এখন থেকে ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তাঁরা আটক করার সঠিক তারিখ ও সময় নথিবদ্ধ করেন এবং ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা ঠিকঠাক মানা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করেন।

ত্রিপুরা হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া এনডিপিএস সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। মামলায় দেখা যায়, চার অভিযুক্তকে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় তল্লাশির নামে আটক করা হয়েছিল, কিন্তু খাতায়-কলমে তাঁদের ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ফলে কোনো বিচার বিভাগীয় নজরদারি ছাড়াই প্রায় ১৮ ঘণ্টা তাঁদের হেফাজতে আটকে রাখা হয়েছিল। শীর্ষ আদালত এটিকে ২২(২) ধারার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে ওই চারজনকে অবিলম্বে বেকসুর খালাস ও মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে।