পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  রাজ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বিএড কলেজগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। সঠিক পরিকাঠামো ও গুণমানের অভাব থাকায় রাজ্যের ২৭৫টি বিএড কলেজকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এই কলেজগুলি তাদের স্বীকৃতি আর নবীকরণ করতে পারবে না।
রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশ রয়েছে যাতে শিক্ষাকে কোনওভাবেই পণ্য হতে দেওয়া না হয় এবং শিক্ষার সঠিক মান বজায় থাকে।

সেই লক্ষ্যেই উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা দপ্তর যৌথভাবে রাজ্যের বিএড, আইটিআই, পলিটেকনিক এবং ফার্মা কলেজগুলিতে কড়া পরিদর্শন চালায়। প্রথম দফার পরিদর্শনে ১৫৬টি বিএড কলেজকে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, সঠিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ ৪১৫টি বিএড কলেজকে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২১ দিনের শোকজ নোটিস পাঠানো হয়, যার মধ্যে ৯টি কলেজ কোনও জবাবই দেয়নি।
মন্ত্রী আরও জানান, দ্বিতীয় দফার পরিদর্শনের পর ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ২৩৭টি বিএড কলেজে পড়ুয়া ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু গুণমান বজায় রাখতে না পারায় বাকি ২০৫টি বিএড কলেজে ছাত্র ভর্তি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু বিএড কলেজই নয়, কড়া পরিদর্শনের পর রাজ্যের ২৬৫টি আইটিআই-এর মধ্যে ১৪টি, ১৩৪টি ফার্মা কলেজের মধ্যে ৩৮টি এবং ৭৪টি পলিটেকনিকের মধ্যে ১টিতে ছাত্র ভর্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।
সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপে বহু পড়ুয়া ও যুক্ত কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাজ্যে একসঙ্গে এতগুলি বিএড কলেজ বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষাক্ষেত্রে এক বিরাট বিপর্যয় নেমে আসবে। এর ফলে আগামী দিনে রাজ্যে যোগ্য শিক্ষকেরও তীব্র অভাব দেখা দিতে পারে। ছাত্রছাত্রী ও কর্মচারীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে সরকারকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে সমস্যা সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।