পুবের কলম, নয়াদিল্লি: উত্তরাখণ্ডের ১৯ বছরের তরুণী অঙ্কিতা ভাণ্ডারীর হত্যার বিচারের দাবিতে দিল্লিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হলেন তাঁর মা-বাবা। বুধবার, ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধির সামনে মৌন প্রতিবাদে বসেছিলেন অঙ্কিতার বাবা বীরেন্দ্র ভাণ্ডারী, মা সোনি দেবী এবং সমাজকর্মী যোগিতা ভয়ানা-সহ অন্যরা। অভিযোগ, তাঁদের সেখান থেকে জোর করে সরিয়ে দেয় দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান সোনি দেবী। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বুরারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বীরেন্দ্র ভাণ্ডারী ও অন্য আন্দোলনকারীদের আটক করে থানায় পাঠানো হয়।

ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব, শিবসেনা (উদ্ধব) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী এবং কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে-সহ বিশিষ্টজনেরা। ডিম্পল যাদব বলেন, অঙ্কিতার মা-বাবার সঙ্গে দিল্লি পুলিশের আচরণ গোটা দেশ এবং দেবভূমি উত্তরাখণ্ডের মেয়েদের আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। মেয়ের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত মা-বাবাকে প্রকাশ্যে টেনে হিঁচড়ে সরানো হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, মেয়ের জন্য বিচার চাওয়া কি অপরাধ?

রিচা চাড্ডার বক্তব্য, মেয়েকে হারানোর শোকের মধ্যেও একজন মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে। সমাজে ধর্ষক ও খুনিদের সমর্থন এবং তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলেন, অঙ্কিতার পরিবার বিচারের জন্য লড়ছে, অথচ ব্যবস্থা তাঁদের সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করছে। সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, অঙ্কিতার মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। সমাজকর্মী গুরমেহর কৌর অভিযোগ করেন, অঙ্কিতার পরিবার চার বছর ধরে সেই কথিত ভিআইপির পরিচয় জানতে চাইছে, যার নাম এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার অভিযোগ উঠেছিল। অথচ সরকার সেই ব্যক্তিকে রাজ্যপালের পদে বসিয়ে পুরস্কৃত করেছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর আরও অভিযোগ, পুলিশ এর আগে ভোর চারটেয় ইন্ডিয়া গেট থেকেও আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিয়েছিল।