পুবের  কলম  ওয়েবডেস্ক :
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ -এর আওতায় জমা পড়া সমস্ত আবেদনের নিষ্পত্তি চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই করা হবে বলে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নদিয়ার রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত আড়ংঘাটায় শতদল ক্লাবের কালীপুজোর উদ্বোধন করতে এসে এই ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়ন ও জীবনরক্ষার তাগিদে ভারতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ২০১৯ সালে সিএএ প্রণয়ন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৬ মার্চ এই আইনের বিধি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রক্রিয়াটি কার্যকর হয়।

কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে বহু আবেদন জমা পড়লেও সেগুলির শুনানি ও নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা—এই দুই জেলা মিলিয়ে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকার এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলাশাসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীদের শুনানির দায়িত্ব মহকুমাশাসকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তির কাজ শেষ করা হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে দুর্গাপুজোর অনুমতি ও প্রতিমা বিসর্জন নিয়েও পূর্ববর্তী সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে প্রায় ১১ হাজার নতুন পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নারী সুরক্ষার বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী জগদ্ধাত্রী পুজো ও রাস উৎসব উপলক্ষে আবারও নদিয়ায় আসার কথা জানান তিনি। উৎসবের সময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে মণ্ডপ দর্শনের জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন।
রাজ্যের পুরনো মঠ ও মন্দিরগুলির সংস্কারের জন্য আগামী দুই বছরে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন তিনি। 'তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প'-এর অধীনে এই কাজ করা হবে। তিনি জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  যেভাবে কেদারধাম, বদ্রীনাথ, অযোধ্যা, বেনারস ও উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরের উন্নয়ন করেছেন, ঠিক একইভাবে বাংলার মঠ-মন্দিরগুলিকেও সাজিয়ে তোলা হবে।