পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মাদক সংক্রান্ত কঠোর আইন, ইউএপিএ বা পিএমএলএ-র মতো বিশেষ বিধির কঠিন জামিনের শর্তের চেয়ে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার সর্বদা উর্ধ্বে থাকবে—এক মামলার শুনানিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ‘দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার’ কোনো সাধারণ আইনি অধিকার নয়, এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। তাই বিশেষ আইনের অজুহাতে এই অধিকারকে কোনোভাবেই খর্ব করা যায় না বলে সাফ জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

‘সুজিত দাস বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’ মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। একই সঙ্গে ২০২৬ সালেরই অন্য একটি মামলার রায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেঞ্চ স্পষ্ট মন্তব্য করেছে যে, পূর্বের ওই রায়টি আইনি নীতি ভঙ্গের কারণে ‘পার ইনকিউরিয়াম’ আইনি নীতি ও নজির উপেক্ষা করে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত) হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের অন্য একটি দুই বিচারপতির বেঞ্চ ‘স্টেট অব পাঞ্জাব বনাম সুখবিন্দর সিং ওরফে গোরা’ মামলায় পর্যবেক্ষণ জানিয়েছিল যে, এনডিপিএস আইনের ৩৭ নম্বর ধারায় উল্লিখিত জামিনের শর্ত অত্যন্ত কঠোর। বিশেষ করে বাণিজ্যিকভাবে নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি উদ্ধারের ক্ষেত্রে দীর্ঘায়িত বিচার প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে ২১ অনুচ্ছেদের আওতায় দ্রুত বিচারের অধিকারকে ব্যবহার করে জামিন নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ, বিশেষ আইনের বিধানই প্রাধান্য পাবে।

বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞার বেঞ্চ এই পুরোনো পর্যবেক্ষণকে সরাসরি নাকচ করে জানান, এই ধরনের মতামত শীর্ষ আদালতের বহু পূর্ববর্তী রায়ের পরিপন্থী। আদালতের পর্যবেক্ষণ—বিশেষ সংবিধিবদ্ধ আইন এবং দেশের সংবিধানের মধ্যে সংঘাত বা দ্বিমত তৈরি হলে সর্বদাই সংবিধানে প্রদত্ত ধারা ও অধিকার জয়ী হবে।