পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নাবিলা সৈয়দ। ২৭ বছর বয়সি এই রাজনীতিক ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয়ী হয়ে হারিয়েছেন রিপাবলিকান দলের বিদায়ী প্রার্থী ডার্বি হিলসকে। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ের ফলে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের আইনসভার উচ্চকক্ষের ২৬ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।
আরও পড়ুন:
নাবিলার পারিবারিক শিকড় ভারতের হায়দরাবাদে। ১৯৮০-র দশকে তাঁর বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন। ইলিনয়ের পালাটাইনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা নাবিলা ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে নির্বাচনী রাজনীতিতে পা রাখেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে থেকে স্নাতক হওয়ার পর ওই বছরই ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের ৫১ নম্বর আসনে জয়ী হন তিনি।
২০২৪ সালেও পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার প্রতিনিধি পরিষদ থেকে উঠে এলেন অঙ্গরাজ্যের সিনেটে।আরও পড়ুন:
ইলিনয়ের অন্যতম ব্যয়বহুল আইনসভা নির্বাচনের লড়াই ছিল এটি। দুই প্রার্থীর প্রচারে মোট অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৬৫ লক্ষ ডলার বলে জানা যায়। নাবিলা পেয়েছেন অন্তত ৪৭ লক্ষ ডলার। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব ইলিনয়, ইলিনয় সিনেট ডেমোক্র্যাটিক ফান্ড এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন তাঁর প্রচারে উল্লেখযোগ্য অর্থসাহায্য করেছে। অন্যদিকে, হিলসের প্রচারে অনুদান এসেছে প্রায় ১৮ লক্ষ ডলার।
আরও পড়ুন:
নাবিলার প্রচারের অন্যতম বিষয় ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ এবং অঙ্গরাজ্যে বাড়তে থাকা ডেটা সেন্টারের সংখ্যা। দুই প্রার্থীই ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারির পক্ষে কথা বলেছেন। প্রাক্তন কৌঁসুলি ও স্থানীয় প্রশাসনের সাবেক ট্রাস্টি ডার্বি হিলস ড্যান ম্যাককঞ্চির পদত্যাগের পর ওই আসনে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর প্রচারের মূল বিষয় ছিল জননিরাপত্তা, কর কমানো এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ। নির্বাচনী লড়াইয়ে নাবিলার বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। জবাবে নিজের আইনসভার কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়গুলিতে জোর দেন নাবিলা।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালে প্রথম নির্বাচনে জয়ের পর এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাবা-মায়ের অবদানের কথা বলেছিলেন নাবিলা।
তাঁর কথায়, মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য বাবা-মা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।আরও পড়ুন:
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জায়গা ও পরিচয় নিয়ে সংশয়ের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। নাবিলার কথায়, ‘এই দেশই আমার একমাত্র বাড়ি। অথচ আমি ভাবতে শুরু করেছিলাম, এখানে আমার আদৌ জায়গা আছে কি না।’
আরও পড়ুন:
এবারের নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও কয়েকজন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। ভার্জিনিয়ার ১০ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্র্যাট সুহাস সুব্রহ্মণ্যম পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। হায়দরাবাদে জন্ম নেওয়া অরুণা মিলার মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে আরও একবার নির্বাচিত হয়েছেন। ফ্লোরিডার ২২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন পিয়া দান্ডিয়াও। পাশাপাশি মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ এবং নিউইয়র্কের স্টেট সিনেটে আবের কাওয়াসের মতো মুসলিম ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের জয়ও এবারের নির্বাচনে আলোচনায় এসেছে।