পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :
অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তুষারপাতের পরিবর্তিত ধরন ও আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী জাফরান উৎপাদন। বিপন্ন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার কৃষক পরিবারের জীবিকা।
কাশ্মীরের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম পরিচয় জাফরান। উচ্চমূল্য ও বিশেষ সুগন্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম দামি মশলা হিসেবে পরিচিত এই জাফরানকে বলা হয় ‘লাল সোনা’। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এবং আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণে ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এই মূল্যবান ফসলের উৎপাদন।

বিশেষ করে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার পাম্পোর অঞ্চলে জাফরান চাষিরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
চাষিদের অভিযোগ, একসময় যে জমিতে প্রচুর পরিমাণে জাফরান ফুল ফুটত, এখন সেখানে ফুলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। বৃষ্টিপাতের অনিয়ম, শীতকালে পর্যাপ্ত তুষারপাত না হওয়া এবং মাটিতে আর্দ্রতার অভাব জাফরান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার তাপমাত্রার পরিবর্তনও এই সংবেদনশীল ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করছে।
জাফরান চাষের প্রধান কেন্দ্র পাম্পোরকে একসময় ‘কাশ্মীরের জাফরান নগরী’ বলা হতো।
এখানকার হাজার হাজার পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই চাষের সঙ্গে যুক্ত। জাফান ফুলের বেগুনি পাপড়ির মধ্য থেকে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে লালচে পরাগদণ্ড সংগ্রহ করে শুকিয়ে তৈরি করা হয় জাফরান। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হাতে করতে হয়। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষকদের আর্থিক সংকটও বাড়ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে কাশ্মীরে জাফরান উৎপাদন ছিল ২৩.৫৩ মেট্রিক টন।
২০২৪-২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৯.৫৮ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাফরান চাষকে বাঁচাতে আধুনিক সেচব্যবস্থা, উন্নত কৃষিপদ্ধতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি পরিকল্পনা জরুরি। পাশাপাশি চাষযোগ্য জমি রক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাফরান শুধু একটি দামি মশলা নয়, কাশ্মীরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এই চাষের অবক্ষয় অব্যাহত থাকলে তার প্রভাব পড়বে কৃষি অর্থনীতির পাশাপাশি কাশ্মীরের ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবিকার ওপরও।