পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: প্রাথমিক স্কুলের দেওয়ালে গেরুয়া রঙের প্রলেপ। তার ঠিক সামনেই জ্বলজ্বল করছে ‘বিধায়ক সেবা কেন্দ্র’-এর ফলক এবং বিধায়কের কাটআউট। পাশে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া ফ্লেক্সও লাগানো হয়েছে। চুঁচুড়ার সিমলাপুলের কাছে সিমলা হরিচরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি অংশের এমন ভোলবদল ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দোতলা এই বিদ্যালয়টি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং পড়ুয়াদের অন্য একটি স্কুলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

সেই সুযোগে একতলার একটি অংশে তৈরি হয়েছে চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সবীর নাগের কার্যালয়। কিন্তু সরকারি নথিতে, বিশেষ করে জমির খাজনা ও পর্চায় এই ভবনটির পরিচয় এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবেই নথিবদ্ধ রয়েছে। একটি স্কুলবাড়ি কীভাবে বিধায়কের দপ্তরে পরিণত হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, "রাজ্যজুড়ে অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ চলছে। সরকারি দপ্তরে বা স্কুলে এভাবে বিধায়ক কার্যালয় করা যায় না।
নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই বিদ্যালয় দখল করেছে বিজেপি।"
তবে তৃণমূলের এই অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সবীর নাগ। তাঁর দাবি, "ওই বিল্ডিংয়ের মালিক যিনি, তিনিই বিজেপি কার্যকর্তাদের কার্যালয় করার অনুমতি দিয়েছেন। পাশের ঘরে আগের মতোই অঙ্গনওয়াড়ি চলবে। ওই বাড়িটি একজনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, এটি কোনও সরকারি দপ্তর নয়।
প্রাথমিক স্কুলটি ইতিমধ্যেই অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে।" নিজের দাবির সপক্ষে বিধায়ক আরও জানান যে তাঁর কাছে আইনত বৈধ লিজ এগ্রিমেন্ট এবং ভাড়ার রসিদ-সহ সমস্ত নথি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই গেরুয়া রং রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর আগে নবান্ন থেকে শুরু করে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে গেরুয়া রং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার চুঁচুড়ার একটি প্রাথমিক স্কুলে গেরুয়া রং ও বিধায়কের কার্যালয় স্থাপনকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।