পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কলকাতা পুলিশের নবনিযুক্ত ৩০৯ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে (এসআই) ‘নেশন ফার্স্ট’ বা রাষ্ট্র সবার আগে এবং ‘ইমানদারি’ বা সততার পাঠ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার লালবাজারে এই নতুন পুলিশ আধিকারিকদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মহিলাদের উপর অত্যাচার এবং নেশামুক্তির বিষয়ে পুলিশকে পুরোপুরি ‘খোলা হাত’ দেওয়া হয়েছে। এই দুটি ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে পুলিশ যদি কোনও সমস্যার সম্মুখীন হয়, তবে মুখ্যমন্ত্রী নিজে তাঁদের ঢাল হয়ে দাঁড়াবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, পুলিশের গায়ে কেউ হাত তুললে তাঁকে জেলে যেতে হবে এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে দোষীদের থেকে তিনগুণ টাকা জরিমানা আদায় করা হবে।
এদিন লালবাজারের অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে কোনও পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রকেই সবার আগে রাখতে হবে এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের নির্দেশ মেনে শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে রাজ্য পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১১ কোটির এই রাজ্যে বিভিন্ন ভাষা, পোশাক এবং খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্য রয়েছে। পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল কিংবা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ— সর্বত্র জনজীবন স্বাভাবিক রাখার কঠিন কাজটি পুলিশই করে থাকে। এত বছর ধরে পুলিশকর্মীরা সঠিক আর্থিক নিরাপত্তা বা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার থেকে পুলিশকে সঠিক আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করা হবে। বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য অসম পুলিশের ট্রেনিং ক্যাম্পের সঙ্গে একটি মৌ স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য পুলিশের সমন্বয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে পুলিশ কর্মীর অভাবের কথা স্বীকার করে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ১১ হাজার পুলিশ নিয়োগ করা হলেও বর্তমানে আরও প্রায় ৪৬ হাজার পদ ফাঁকা রয়েছে। ধীরে ধীরে এই সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করা হবে। এর মধ্যে ৬৩৪৫ জন মহিলা পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশে ৪ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পুলিশে বড়সড় নিয়োগের পাশাপাশি বন দপ্তর এবং দমকলেও নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।