পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: গত ১২ বছরের বিজেপি শাসনের অধীনে দেশের সামাজিক বুনন, গণতন্ত্র এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলির ‘প্রভূত ক্ষতি’ করা হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, দেশের মানুষ এখন বর্তমান সরকারের এই অপশাসন উপলব্ধি করতে পারছেন এবং পরিবর্তনের জন্য তারা ‘অস্থির’ হয়ে উঠছেন।

সাক্ষাৎকারে সোনিয়া গান্ধী স্পষ্ট জানান, ২০২৯ সালের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হলেও দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে আগের স্বাস্থ্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ সময় ও রাজনৈতিক দলগুলির বিপুল প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। কংগ্রেসের একসময়ের একচ্ছত্র আধিপত্য কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তিনি একেবারেই ‘নিরাশাবাদী’ নন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "কংগ্রেস ও আমাদের দল কখনোই বিজেপি বা আরএসএস-এর সঙ্গে কোনো সমঝোতা করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

রাজনীতিতে মাঝে মাঝে কিছু আপস করতে হলেও নীতি ও আদর্শের জায়গায় আমরা অবিচল।"

সাক্ষাৎকারে ইন্দিরা গান্ধীর আমলের জরুরি অবস্থা নিয়ে সোনিয়া গান্ধী বলেন, সেই সময়ের সহিংস বিক্ষোভ, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং সেনাবাহিনী ও আমলাতন্ত্রকে আদেশ অমান্য করার আহ্বানের মতো জটিল পরিস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী নিজেই পরিস্থিতি অনুধাবন করে ১৯৭৭ সালে নির্বাচনের ডাক দেন এবং জরুরি অবস্থার সময়ের চরমপন্থার জন্য প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে ক্ষতের নিরাময় ঘটিয়েছিলেন।

সোনিয়া গান্ধীর এই মন্তব্যের পরপরই কেন্দ্রীয় সরকারের দুই মন্ত্রী তীব্র পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল সোনিয়া গান্ধীকে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, "যে সময়ে হাজার হাজার বর্ষীয়ান বিরোধী নেতাকে জেলে পোরা হয়েছিল, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল, সোনিয়া জি কি সেই গণতন্ত্র হত্যার ঘটনা ভুলে গেছেন? এর বিপরীতে বিগত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতকে 'গণতন্ত্রের জননী' হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং গণতন্ত্রকে বিকশিত করেছেন।"