পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে জারি হওয়া জরুরি অবস্থাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক পর সেই বিতর্কিত অধ্যায় নিয়েই নতুন করে চর্চা উসকে দিলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর লেখা আত্মজীবনী প্রকাশের ঠিক আগে এক সাক্ষাৎকারে সোনিয়া দাবি করেছেন, জরুরি অবস্থার সময় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হলেও তা সম্পূর্ণ সাংবিধানিক পদ্ধতিতেই করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তীকালে ইন্দিরা গান্ধী ওই সময়ের বাড়াবাড়ির জন্য প্রকাশ্যেই অনুতাপ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে সোনিয়া গান্ধীর বই ‘Belongিং: আ জার্নি অফ লাভ’। তার আগে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ওই বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জরুরি অবস্থার দায় শুধুমাত্র সঞ্জয় গান্ধীর উপর চাপাতে অস্বীকার করেন। সোনিয়া জানান, জরুরি অবস্থার সঙ্গে সঞ্জয় গান্ধীর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকলেও, তৎকালীন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ছিল। দেশে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং আমলা ও সেনাকে নির্দেশ না মানার ডাক দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই দ্রুত খারাপ হতে থাকা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন ইন্দিরা। সোনিয়ার দাবি, সেই সময় বহু প্রবীণ নেতা এবং আমলার তরফেই ইন্দিরা গান্ধীর উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে সোনিয়া আরও জানান, সেই অস্থির সময়ে রাজীব গান্ধীর মতো ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ খুব কমই ছিলেন, যিনি মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনে মা ইন্দিরাকে জানাতেন। সোনিয়ার কথায়, “ইন্দিরা গান্ধী নিজেই পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ১৯৭৭ সালের মার্চে নির্বাচন ডেকেছিলেন এবং জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছিলেন। তিনি নিজেই প্রকাশ্যে জরুরি অবস্থার বাড়াবাড়ির জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিকভাবেই বিষয়টি মিটেছিল।”
ওই একই সাক্ষাৎকারে বিজেপি সরকারকে নিশানা করে সোনিয়া অভিযোগ করেন যে, গত বারো বছরে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই পালটা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সোনিয়াজি কি ১৯৭৫ সালের কথা ভুলে গিয়েছেন, যখন গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা হয়েছিল? হাজার হাজার নেতাকে জেলে পোরা হয়েছিল এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল।” উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল, যা স্থায়ী হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত।