পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শুক্রবার মধ্যরাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালন ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কালীঘাট চত্বর। রাস্তা দখল করে জন্মদিন পালনের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল সাংসদের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। সেই সময় প্রতিমা নিয়ে যাওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তাঁদের বচসা ও সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে খোদ পুলিশের সঙ্গেই বিতণ্ডায় জড়ান অভিষেক। অভিযোগ, এক পুলিশ আধিকারিককে আঙুল তুলে ধমকও দেন তিনি।
এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অভিষেককে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং।শনিবার জগদ্দলের মজদুর ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের এখন ‘হোমিওপ্যাথি’ নয়, ‘টোটাল অ্যালোপ্যাথি’ ওষুধের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতে, ভোটে হেরে গিয়ে সংবাদমাধ্যমে ভেসে থাকার জন্যই অভিষেক এসব করছেন। তাঁকে কড়া শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী আরও জানান, যে দলের আমলে অসংখ্য বিজেপি কর্মী এবং কিষেণজির মতো ব্যক্তি খুন হয়েছেন, সেই দলের নেতার মুখে পুলিশকে এমন ধমক ও চোখরাঙানি মানানসই নয়। এবার এর মোক্ষম জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে অভিষেকের কাটআউট ও ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। দু'পক্ষকে সরাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে অভিষেক অনুগামীদের নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের ভিতরে যাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। উলটে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান তিনি।
অন্যদিকে, শনিবার কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাস্তায় নেমে ক্ষোভপ্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, এ বছর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বাড়ির সামনে একটি পুজো করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর জেরে তাঁদের বাড়ির পুজোর কাজ এবং যান চলাচলে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। পুলিশ এই বিষয়ে বাধা দিলে তিনি সরাসরি কালীঘাট মন্দিরের সামনে গিয়ে পুজো করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।