পুবের কলম, কলকাতা: কলকাতায় চোরবাগান সার্বজনীনের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা এবং রাজ্য সরকারের নীতির সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্টের অভিযোগে রাজ্যের তিন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। তিন ক্রিয়েটর হলেন—আকাশ সরকার, সুরজিৎ শী এবং শ্রীময়ী চক্রবর্তী। এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে সরকারবিরোধী মতপ্রকাশের ওপর ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মতো কঠোর ফৌজদারি ধারা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

‘অল্ট নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের বাসিন্দা এবং 'কোর বাংলা-জনকন্ঠ' ফেসবুক পেজের প্রতিষ্ঠাতা সুরজিৎ শী।

তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয় এবং পরে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। নাগেরবাজারের বাসিন্দা আকাশ সরকার, ২৫ অক্টোবর গ্রেফতারের পর বারাসাত আদালতে পেশ করা হলে ৩ দিনের পুলিশি হেফাজত দেওয়া হয়। পরে ২৯ অক্টোবর তিনি জামিন পান। শ্রীময়ী চক্রবর্তী নামের এক ক্রিয়েটরকে ২৬ অক্টোবর বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ আটক করে।
পরবর্তীতে ২,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে ওই দিনই তিনি মুক্তি পান। পুলিশের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানহানি, সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ‘ভারতী বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র সদস্য সুরজিৎ তাঁর পেজে চোরবাগান দুর্ঘটনার সরকারি ব্যাখ্যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি গনগণের মুখ বন্ধ করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

চোরবাগানের ঘটনার দায় এবং মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য নেতাদের সমালোচনা করে পোস্ট করেছিলেন আকাশ সরকার। তারপরই সৌমেন দাস নামক এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে আকাশ সরকারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং তাঁকে গ্রেফতার করে। শ্রীময়ী চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় মুক্তকণ্ঠে নিজের বামপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি প্রশাসনের প্রতিমা নিরঞ্জন সংক্রান্ত নীতির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। সমালোচনা করায় তাঁকেও আটক হতে হয়েছে। এদিকে সরকারের সমালোচনার জেরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ফলে সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাধীন মতামত প্রকাশের অধিকার কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে নাগরিক সমাজে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।