পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই বড় ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান-এর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার অগ্রগতি বিবেচনা করেই তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগকে সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।


 
তিনি আরও জানান, এই আলোচনা সপ্তাহজুড়ে চলবে এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ভর করবে আলোচনার সফলতার ওপর। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের বরাত দিয়ে একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো আলোচনাই হয়নি। বরং ইরানের পাল্টা হুমকির পরই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। এর জবাবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এমন হামলা হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-সম্পৃক্ত জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এমনকি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেয় তারা।
 
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায়, পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই সাময়িক ‘বিরতি’ সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে, নাকি এটি কৌশলগত পিছু হটা—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।