পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিতর্কিত নির্বাচনী সংশোধনের ফলে সৃষ্ট ক্ষত আরও গভীর হচ্ছে। বিবেচনার বিচারের ছবিটা এখনও পুরো স্পষ্ট নয়। তবে এস আই আর এ বিবেচনাধীন তালিকা ছবিটা যত স্পষ্ট হচ্ছে ততই কপালে ভাঁজ চওড়া হচ্ছে রাজনৈতিক মহলের । কারণ বেশিরভাগ জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বহরে বেশ ভারী। কোথাও তা তৃণমূলের উদবেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সামান্য দু একটা ক্ষেত্রে বিজেপিরও । একটি একটি করে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করছে নির্বাচন কমিশন আর ততই রক্তচাপ বাড়ছে প্রার্থীদের।
কারণ প্রতিটি অতিরিক্ত তালিকা গুলিয়ে দিচ্ছে এতদিনের রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ। বাতিল নামের সংখ্যা নিয়ে অঙ্ক করতে বসে নিজেদের একাধিক 'গড়' এ অংক মেলাতে পারছে না রাজনৈতিক দলগুলি। বাকি তালিকা গুলিতেও যদি এই একই প্রবণতা বজায় থাকে অনেকের অনেক দুর্গ হাতছাড়া হতে পারে। এখনো পর্যন্ত ষষ্ঠ অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।আরও পড়ুন:
তাতে দেখা যাচ্ছে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৩৯০ জনের ক্ষেত্রে 'সিদ্ধান্ত' নিয়ে যে নাম প্রকাশ করা হয়েছে, তার মধ্যে ৩০ হাজার ১৩৫ জনের নাম যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আর ১ লক্ষ ১৮ হাজার ২৩৬ জনের নাম বাদ দিয়েছে অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ নাম বাদ।
কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে সংখ্যাটা আরও বেশি। চাপড়ায় প্রায় ৯১% ,নাকাশিপাড়া কেন্দ্রে প্রায় ৯৫% ,কৃষ্ণনগর উত্তরে প্রায় ৯২ শতাংশ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণে প্রায় ৯৫ শতাংশ, শান্তিপুরে প্রায় ৮৮ শতাংশ, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৯৩ শতাংশ,রানাঘাট উত্তর পূর্বে প্রায় ৮৬ শতাংশ, রানাঘাট দক্ষিণে প্রায় ৯৩%। এখনও পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় ঝুলে আছে। নদিয়া জেলা প্রশাসনের অনেকে মনে করছেন প্রায় ২ লক্ষের বেশি নাম বাদ যেতে পারে।আরও পড়ুন:
প্রথমেই মৃত, অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত ইত্যাদি হিসেবে প্রায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। খসড়া তালিকা থেকে অযোগ্য হিসাবে বাদ গিয়েছে প্রায় ৬২ হাজার অর্থাৎ আগেই প্রায় ২ লক্ষ ৭৮ হাজার নাম বাদ চলে গিয়েছে।
সেই সঙ্গে যদি বিবেচনাধীন তালিকা থেকে আরও দু'লক্ষের বেশি নাম বাদ যায় তাহলে অনেক কেন্দ্রে তা অনেক জয়ী দলের দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে , কারণ দেখা যাচ্ছে বিগত লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে যে দল যত ভোটে এগিয়ে ছিল ও জিতেছিল, তিনটি ক্ষেত্রে বাদ যাওয়া সংখ্যা যোগ করলে সংখ্যাটা তার থেকে অনেকটাই বেশি।রাজনৈতিক মহলের দাবি , সাধারণত মৃত, স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত ভোটারদের ভোট মূলত শাসকদলের পক্ষেই যায়। সেই হিসেবে তৃণমূল প্রভাবিত কেন্দ্রে মৃত ও বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটারদের সংখ্যার বড় অংশই শাসকদলের বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। আবার কোন কোন বিজেপি প্রভাবিত কেন্দ্রে অযোগ্য, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটারদের সংখ্যার বড় অংশই তাদের বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত যদি এই অংক মিলে যায় আর নাম বাদ যাওয়ার এই ধারা অব্যাহত থাকে, অনেক চেনা হিসেবে যে এলোমেলো হয়ে যাবে তাতে সন্দেহ নেই। সামগ্রিকভাবে, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া ২০২৬ সালের নির্বাচনের লড়াইকে আরও জটিল এবং অনিশ্চিত করে তুলেছে নদিয়ায় ।