কৌশিক সালুই, বীরভূম :- পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হতে চলেছেন বীরভূমের সিউড়ির লোকশিল্পী রতন কাহার। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে নাম ঘোষণা করা হয়। জনমানুষে স্বীকৃতি পেলেও সরকারি স্বীকৃতি ছিল এতদিন অধরা। জীবন সায়ন্যে এসে জেলার কৃতি সন্তানের স্বীকৃতি মেলায় উচ্ছাস জেলা জুড়ে।
আরও পড়ুন:
রতন কাহার বয়স ৮৮ বছর। বাড়ি সিউড়ি শহরে। লোক শিল্পী হিসেবে খ্যাত।
৭০ দশকের শুরু থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের লোক গান রচনা করেছেন এবং নিজে গিয়েছেন। তার সব থেকে বিখ্যাত লেখা গান হল "বড় লোকের বিটি লো তোর লম্বা লম্বা চুল"। এই গানটি লোকসংগীত সম্রাজ্ঞী তথা বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা, স্বপ্না চক্রবর্তীর কন্ঠে হিট হয়। অভিযোগ ওঠে গানটি রতন কাহারের লেখা হলে সেই সময় এই গায়িকা গীতিকার এর নাম না লিখে প্রচলিত হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।আরও পড়ুন:
পরবর্তী সময়ে রকস্টার বাদশা, তার ওই গান ব্যবহার করলেও তিনিও প্রচলিত হিসেবে প্রথমে লেখেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠায় পরে তিনি বাধ্য হয়ে রতন কাহাকে সেই স্বীকৃতি দেন। এবং সেই সময় এই গীতিকার লোক শিল্পীকে তিনি ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করেন।
এক চিলতে ঘরে তার দুই ছেলে- স্ত্রী নিয়ে সংসার। ছেলেরা কেউ মাছের আরত আবার কেউ লটারির ব্যবসা করে থাকে। অভাব যাদের নিত্য সঙ্গী। তা সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত তার কন্ঠে সুমধুর সংগীত আমরা শুনতে পাই। জীবনের শেষ বয়সে হলেও দেশের অন্যতম সম্মান পেয়ে রীতিমতো খুশি তিনি।আরও পড়ুন:
এই সম্মানে পেট কতটা ভরবে তিনি জানেন না তবে মন যথেষ্ট ভরে গিয়েছে এই লোক শিল্পীর। এ লোক শিল্পীর গান প্রথম ১৯৭২ সালে রেডিওতে সম্প্রচারিত হয়।
এখনো পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩ বছর কাছাকাছি গান রচনা করেছেন। এর মধ্যে সব থেকে জনপ্রিয় "বড়লোকের বিটি লো"। রতন কাহার বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে স্বীকৃতি পেলেও পদ্মশ্রী মতো এত বড় স্বীকৃতি মেলায় অবশ্যই খুশি হয়েছি। প্রথমে আমি ওই গানটি রেডিওতে গিয়েছিলাম তারপরে একটা সঙ্গীত শিল্পীগোষ্ঠী সমবেত ভাবে ওই গানটি পরবর্তী সময়ে গাইতেন।আরও পড়ুন:
এরপর স্বপ্না চক্রবর্তী আমার কাছ থেকে গানটি লিখে নিয়ে যান এবং তিনি রেকর্ড করেন। সেই সময় তিনি আমার লেখা ও সুরের স্বীকৃতি দেননি। পরবর্তী সময়ে আমি আমার গানের স্বীকৃতি আমি পেয়েছি"।