পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কোচবিহারের শীতলকুচি-তে জনসভা করে ২০২১ সালের ঘটনার স্মৃতি উসকে দিয়ে পালাবদলের ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতি প্লে গ্রাউন্ডে আয়োজিত সভায় বিপুল জনসমাগম দেখে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেন তিনি।
সভায় অভিষেক বলেন, “এই মানুষ যদি লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন, আগামী ১০ বছর কোচবিহারের কোনও বুথে বিজেপির এজেন্টকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই জেলায় ফল ঘোরানোর বিষয়ে আশাবাদী তৃণমূল নেতৃত্ব।
বক্তৃতার শুরুতেই ২০২১ সালের ১০ এপ্রিলের শীতলকুচি ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। ওই দিন বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোটে সিআইএসএফের গুলিতে চারজন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। অভিষেকের অভিযোগ, “কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির মদতে দিনের আলোয় নিরীহ মানুষকে গুলি করা হয়েছিল”—যা আজও মানুষের মনে দাগ কেটে রয়েছে। সভায় উপস্থিত জনতার ভিড় দেখে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, শীতলকুচির মানুষের এই সমর্থন তিনি উন্নয়নের মাধ্যমে শোধ করার চেষ্টা করবেন। তাঁর দাবি, এবারের ভোট “প্রতিবাদের ভোট” এবং “প্রতিশোধের ভোট”।
আরও পড়ুন:
এদিনের সভায় শীতলকুচির প্রার্থী হরিহর দাস ছাড়াও মেখলিগঞ্জের পরেশচন্দ্র অধিকারী, সিতাইয়ের সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া, দিনহাটার উদয়ন গুহ এবং কোচবিহার দক্ষিণের অভিজিৎ দে ভৌমিক উপস্থিত ছিলেন।
কোচবিহার জেলায় রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক জানান, একাধিক এলাকায় সেতু নির্মাণ, ইংরেজি মাধ্যম সরকারি স্কুল, কিষাণ মান্ডি, কর্মতীর্থ এবং নতুন ফায়ার স্টেশন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তামাক ও আলু চাষে যুক্ত কৃষকদের সুবিধার জন্য এলাকায় নতুন হিমঘর গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে জেলার কিছু আসনে তৃণমূল জয় পেলেও শীতলকুচি ছিল বিজেপির দখলে। এবার সেই সমীকরণ বদলাতে আরও বেশি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস।