পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: আহমদাবাদের ভয়াবহ যে বিমান দুর্ঘটনায় ২৭০ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে যা জানা গেল তা মারাত্মক। বিমানটি সর্বোচ্চ গতিতে আকাশে ওড়ার পর আচমকাই বিমানের দুটি ইঞ্জিনেরই সুইচ ' রান' থেকে 'কাট অফ' এ স্থানান্তরিত হয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় পাইলট বারবার চেষ্টা করেন সুইচকে কাট অফ থেকে রান এ আনতে। একটি ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে ক্ষণিকের জন্য তা হলেও ইঞ্জিন চালু করা সম্ভব হয়নি। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়ে বিমানটি নিচে নামতে শুরু করে। বিমানের ককপিট ভয়েস রেকর্ডার থেকে জানা যাচ্ছে, একজন পাইলট ওই চরম বিপদের মুহূর্তে অন্য পাইলটকে বলছেন, দুটি ইঞ্জিনের সুইচ 'রান' থেকে 'কাট অফে' কে করলেন? কেন করলেন? অপর পাইলট জবাবে বলেন, ' আমি করিনি।
কে করেছে বলতে পারব না'। এরপরই পাইলট প্রাণপণে সুইচ দুটিকে ঘোরানোর চেষ্টা করলেও পারেননি। অগত্যা 'মেডে' বলে বারবার পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারে বিপদ সংকেত দেন। মেডে শব্দটি একটি ফরাসি শব্দ থেকে এসেছে। ওই ফরাসি শব্দের অর্থ ' আমাকে সাহায্য করুন'।

 

দুটি ইঞ্জিনের সুইচ যান্ত্রিক গোলমালে 'চালু রাখা' থেকে ' বন্ধ করা'র দিকে ধাবিত হয়, না কেউ ইচ্ছে করে তা করে দিয়েছিল, তা জানার চেষ্টায় এগোবে তদন্তের দ্বিতীয় ধাপ। যেহেতু বিমানটি গোড়া থেকেই ১৮০ নট আইএএস গতিতে চলছিল, তাই কি ইঞ্জিনের সুইচ বদলানো সম্ভব হয়নি?

এ প্রশ্নও ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।

বিমানের গতিবেগ ১৮০ নট আইএএস মানে ঘন্টায় ৩৩৩ কিমি বেগে চলছিল বিমানটি।এটাই ড্রিমলাইনারের সর্বোচ্চ গতিবেগ। শুরুতেই সর্বোচ্চ গতিবেগে চালালেন কেন পাইলট। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আকাশে ওড়ার সময়েই বিমানটি গতি নিতে চায়নি। তাই পাইলট বাধ্য হয়েছিলেন গতিবেগ সর্বোচ্চ করতে।

ইঞ্জিনের সুইচ কাট অফ বাটনে থাকলে বিমানের জ্বালানি ইঞ্জিনে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার অফিসে মেডে কল পাঠালেও তা এটিসিতে আসেনি।

পরক্ষণেই এটিসির অফিসাররা অফিস ঘরে বসেই দেখতে পান, বিমানবন্দরের ঠিক সীমানার বাইরেই বিমানটি দাউ দাউ আগুনে খাক হয়ে ভেঙে পড়ছে হাসপাতালের আবাসনের ছাদে। সকাল ৮টা ১০/১১ মিনিটে বিমানটি ভেঙে পড়ে।

সকাল ৮ টা ১৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, দুর্ঘটনার অনেক পরে ওরা আসেন। গোড়ায় স্থানীয় মানুষজনই উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

ব্ল্যাক বক্স থেকে যে ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার মিলেছে তা আমেরিকায় পাঠিয়ে তথ্য উদ্ধার করা হয়। ওতে ৪৯ ঘন্টা বিমান চলার রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। তদন্ত চলবে। কোনও নাশকতার উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনের সুইচ অন্য বাটনে বদলে দেওয়া হয়েছিল কিনা তাও দেখা হচ্ছে।