পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছে প্রায় ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক। এই নির্দেশের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এরপরও গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় বিকাশ ভবনে আটকে পড়েন কয়েকশো সরকারি কর্মী। তাঁদের মধ্যে কেউ অন্তঃসত্ত্বা, আবার কারও বাড়িতে অসুস্থ বৃদ্ধা মা। তাই অফিস ছুটির পর বাড়ি ফেরার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে ওঠেন সরকারি কর্মীরা। পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে গেলে বিকাশ ভবন চত্বরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ইস্যুতে ৩দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দোলন করার একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, সে কথা চাকরিহারা শিক্ষকদের স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

সোমবার দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন,  ‘আমার যথেষ্ট সিমপ্যাথি ছিল। থাকবে।

আমি বলেছিলাম রিভিউ করব। কোর্টে কিছু বাধ্য-বাধকতা থাকে। আমরা রিভিউ পিটিশন করেছিলাম। আদালত কোনও সিদ্ধান্ত নিলে মানব না বলতে পারি না।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘এখনও কারও মাইনে বন্ধ হয়নি। গ্রুপ-সি, গ্রুপ-ডি কর্মীদের স্কিম করে মাইনে দেওয়া হচ্ছে। এই আন্দোলনে যারা উসকানি দিচ্ছে তারাই মামলা করেছে।’ বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘নাটের গুরুরা, স্বার্থরক্ষার গুরু হয়ে যায় তাহলে মুশকিল। রাজ্য সরকারের উপর ভরসা রাখা উচিত ছিল। শিক্ষকদের কাছ থেকে সৌজন্য, সম্মান আশা করি।

প্রসঙ্গত,সল্টলেকের বিকাশ ভবনে রাজ্য সরকারের কমপক্ষে ৫০টি দফতর রয়েছে। অন্তত ৫০০-৬০০ কর্মী কর্মরত সেখানে। সরকারি কর্মীদের আটকে রেখে চাকরিহারা শিক্ষকদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে মমতা আরও বলেন,  ‘কাউকে আটকে রাখা যায় না। রাস্তা অবরোধ করে কারও সমস্যা করা যায় না। অন্তঃসত্ত্বাকে আটকে রাখা হচ্ছে। এক পরীক্ষার্থীকে বেরতে দেওয়া হয়নি। ঝাঁপ দিয়েছে। পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি।’  চাকরিহারা শিক্ষকদের মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আন্দোলন করার একটা লক্ষ্মণরেখা আছে। এভাবে লড়াই না করে আইনি লড়াই করুন।

আমরা আপনাদের বিপক্ষে নই। কোনও রাজনৈতিক দল যদি মনে করে জলঘোলা করবে। তাহলে তাদের বলব মামলা কেন করলেন।’

ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে এই প্রথমবার প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, এই বিষয়ে যা করার, আইনিভাবে করবেন। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বাইরে মুখ খুলবেন না।

সোমবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে ঢোকার আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডিএ মামলা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘কোর্টের কেসে (বিচারাধীন বিষয়ে) আমি কিছু বলি না। যা করি, আইনত করি।’

গত শুক্রবার রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নির্দেশে বলা হয়েছে, আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই বকেয়া টাকা মেটাতে হবে রাজ্যকে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট মামলার সঙ্গে যুক্ত সকল পক্ষকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে লিখিত বক্তব্য জানাতে বলেছে। আগামী ৪ অগস্ট শীর্ষ আদালতে আবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।