০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“অসমে এসআইআর-এ বাদ পড়বে ৫ লক্ষ মিয়াঁ ভোটার”: ভোটের আগে বিষ্ফোরক হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অসমে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে আর মাত্র এক মাস বাকি। ঠিক তার আগেই ভোটার তালিকা থেকে ‘মিয়াঁ’ ভোটারদের বাদ দেওয়া নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর মতে, রাজ্যে যদি ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ লক্ষ মিয়াঁ ভোটার তালিকা থেকে ছিটকে যাবেন।

বর্তমানে অসমে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘স্পেশাল রিভিশন’ বা এসআর (SR) প্রক্রিয়া চলছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়ায় ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁর দাবি, এটি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ। পূর্ণাঙ্গ এসআইআর শুরু হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। কংগ্রেসকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “কংগ্রেস আমায় যতই হেনস্তা করুক, আমার কাজ হলো মিয়াঁদের সমস্যায় ফেলা। ওরা সমস্যায় না পড়লে দুলিয়াজান বা তিনসুকিয়ার মতো জায়গায় ঢুকে পড়বে।”

আরও পড়ুন: ১২ জেলায় হিন্দুরা সংখ্যালঘু! রাজ্যের জনবিন্যাস নিয়ে দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর

এদিন মুখ্যমন্ত্রী তিনসুকিয়ার একটি জমি হস্তান্তরের তালিকার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, হিন্দুদের সম্পত্তি মিয়াঁ মুসলিমরা কিনে নিচ্ছে, যা রাজ্যের জনবিন্যাসের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির জেরে নতুন করে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

আরও পড়ুন: মহিলাদের ‘সতীত্ব’ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, হিমন্তের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

অসমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং অসমিয়া বনাম বাংলাভাষী দ্বন্দ্ব কয়েক দশকের পুরনো সমস্যা। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার লড়াইয়ে এই জাতীয়তাবাদী আবেগ এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুকেই তুরুপের তাস করতে চাইছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর এই সরাসরি ‘মিয়াঁ’ বিরোধী অবস্থান একদিকে যেমন জনজাতিদের সমর্থন টানতে সাহায্য করতে পারে, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যে মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও তীব্র করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে হিন্দি প্রসারের পক্ষে সওয়াল হিমন্তের

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

সুপ্রিম কোর্টে পিছোল I-PAC শুনানি, পরবর্তী দিনক্ষণ ১০ ফেব্রুয়ারি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

“অসমে এসআইআর-এ বাদ পড়বে ৫ লক্ষ মিয়াঁ ভোটার”: ভোটের আগে বিষ্ফোরক হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অসমে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে আর মাত্র এক মাস বাকি। ঠিক তার আগেই ভোটার তালিকা থেকে ‘মিয়াঁ’ ভোটারদের বাদ দেওয়া নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর মতে, রাজ্যে যদি ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ লক্ষ মিয়াঁ ভোটার তালিকা থেকে ছিটকে যাবেন।

বর্তমানে অসমে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘স্পেশাল রিভিশন’ বা এসআর (SR) প্রক্রিয়া চলছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়ায় ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁর দাবি, এটি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ। পূর্ণাঙ্গ এসআইআর শুরু হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। কংগ্রেসকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “কংগ্রেস আমায় যতই হেনস্তা করুক, আমার কাজ হলো মিয়াঁদের সমস্যায় ফেলা। ওরা সমস্যায় না পড়লে দুলিয়াজান বা তিনসুকিয়ার মতো জায়গায় ঢুকে পড়বে।”

আরও পড়ুন: ১২ জেলায় হিন্দুরা সংখ্যালঘু! রাজ্যের জনবিন্যাস নিয়ে দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর

এদিন মুখ্যমন্ত্রী তিনসুকিয়ার একটি জমি হস্তান্তরের তালিকার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, হিন্দুদের সম্পত্তি মিয়াঁ মুসলিমরা কিনে নিচ্ছে, যা রাজ্যের জনবিন্যাসের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির জেরে নতুন করে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

আরও পড়ুন: মহিলাদের ‘সতীত্ব’ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, হিমন্তের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

অসমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং অসমিয়া বনাম বাংলাভাষী দ্বন্দ্ব কয়েক দশকের পুরনো সমস্যা। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার লড়াইয়ে এই জাতীয়তাবাদী আবেগ এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুকেই তুরুপের তাস করতে চাইছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর এই সরাসরি ‘মিয়াঁ’ বিরোধী অবস্থান একদিকে যেমন জনজাতিদের সমর্থন টানতে সাহায্য করতে পারে, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যে মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও তীব্র করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে হিন্দি প্রসারের পক্ষে সওয়াল হিমন্তের