পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: দোকানদরদের মধ্যে কেউ মুসলিম রয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করতে পথে নেমেছ মিরাটের একাধিককট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। কানওয়ার যাত্রা রুটের দু’ধারে যে দোকান বসেছে সেখানে কোনও মুসলিম দোকান দিয়েছে কিনা তা জানতে এই পদক্ষেপ শুরু করেছে তারা।
তারা সমস্ত দোকানে গিয়ে দোকান মালিকের পরিচয় জিজ্ঞাসা করছে। ট্রেড লাইসেন্স দেখতে চাইছে।
দোকানের কাগজপত্র দেখতে চাইছে। কেউ আপত্তি জানালেই চলছে প্রহারও। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, এভাবে দোকানে দোকানে ঢুকে দোকান মালিকদের পরিচয় যাচাই করার স্পর্ধা এই সব সংগঠনের লোকজন পায় কোথা থেকে? কীভাবে হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনগুলি আইন নিজেদের হাতে তুলে নিতে পারে? এই ধরনের কাজ তো সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ। আইনত এমন অধিকার কোনও রাজনৈতিক দল বা কোনও সংগঠনের নেই, তারপরও ওই কট্টরবাদী সংগঠনগুলি কীভাবে এই ধরনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশের নাকের ডগায়?আরও পড়ুন:
বিরোধীদের প্রশ্ন, পুলিশ-প্রশাসন বা আইনের কোনও সদস্য না হয়েও কীভাবে এই ধরনের কাজ চালিয়ে যেতে পারে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি।
সেই অধিকার তাদের কে দিয়েছে? কানওয়ার যাত্রা একটি বার্ষিক তীর্থযাত্রা যেখানে হিন্দু ভক্তরা গঙ্গা থেকে জল নিয়ে আসেন ভগবান শিবকে নিবেদন করার জন্য। এই সময়কালে তাদের যাত্রাপথে যাতে কোনও বিঘ্ন না হয় সেজন্য প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই যাত্রা ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড সরকারের নির্দেশিকা যেখানে খাবারের দোকানগুলির মালিক এবং কর্মীদের নাম লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন:
যদিও এই ধরনের বৈষম্য এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশিকাগুলি স্থগিত করেছে। বিরোধীদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে যে বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়ে আলোকপাত করেছে এই ধরনের পদক্ষেপ তারই ধারাবাহিকতা। এই সব কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলির সদস্যদের দোকান মালিকদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।