পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: এশিয়ার বহু দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনবিক্ষোভের মূল শিকড় দুর্নীতি। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে ইতিমধ্যেই গণঅসন্তোষের মুখে সরকার পতন হয়েছে। মালয়েশিয়াতেও চলছে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন। এসব দেশের নাগরিকেরা যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন, তখন প্রকাশ পাচ্ছে আরেক ভয়াবহ চিত্র, ক্ষমতাসীনদের লুটপাট করা বিপুল অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে লন্ডনে।

লন্ডনের বিলাসবহুল সম্পত্তি বাজার দীর্ঘদিন ধরেই রহস্যময় অর্থের অন্যতম আশ্রয়স্থল। অজ্ঞাত উৎসের টাকায় কেনা প্রাসাদোপম ভবন ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি এখন বৈশ্বিক দুর্নীতির নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এশিয়ার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলো যখন পাচারকৃত অর্থ ফেরত চাইছে, তখন ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলে দেশটিকে আবারও তবিশ্বের লন্ড্রোম্যাটদ;অর্থাৎ কালোটাকা সাদা করার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র;হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক আজমি হাসান বলেন, লন্ডন মালয়েশীয় অভিজাতদের সম্পত্তি কেনার প্রথম পছন্দ। ব্রিটেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে তারা সেখানে অর্থ রাখাকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় মনে করেন। একই চিত্র দেখা যায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে।

শুধু লন্ডন নয়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য বলছে, ক্যারিবীয় অঞ্চলের পাঁচটি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি, যেমন কেম্যান আইল্যান্ডস ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বৈশ্বিক অর্থ পাচারের বড় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। গত তিন দশকে এসব অঞ্চলের মাধ্যমে ৭৯টি দেশ থেকে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের অবৈধ অর্থ পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সব মিলিয়ে, এশিয়ার দুর্নীতি শুধু দেশগুলোর অর্থনীতি ও রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করছে না, বরং লন্ডনকে পরিণত করছে বৈশ্বিক কালোটাকার রাজধানীতে।