ইনামুল হক, বসিরহাট: বসিরহাটের মাটিয়া থানার ধান‍্যকুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নেহালপুর সরদার পাড়ার থেকে  শুক্রবার বিকেল তিনটের সময় পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে ওড়িশার দিকে  রওনা হয়েছিল। পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করার জন্য।

শনিবার ভোর চারটে নাগাদ ওড়িশার জাজপুর জেলার  ধর্মশালা থানার চন্ডীপুরে জাতীয় সড়কে রাস্তার ধারে গাড়ির মধ্যে চালক ও খালাসি সহ সাতজন বিশ্রাম  নিচ্ছিলেন। সেই সময় পিছন দিক থেকে একটি ডাম্পার সজোরে ধাক্কা মারে।
গাড়িটি পুরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সাত জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সাতজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।মৃতরা হলেন-আমজাদ আলী সরদার (২৮),জাহাঙ্গীর (স্বপন) সরদার (৪০),করিম সরদার (২৫),আমিরুল সরদার (২৬),আরিফ সরদার (২৬) টিংকু সরদার (৩০), সুরজ সরদার (৪৯) চালক।

ঠিক কি কারণেই দুর্ঘটনা?
ঘন কুয়াশার জেরে পিছন দিক থেকে ডাম্পারের সজোরে ধাক্কা গাড়িতে?  নাকি ডাম্পারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে? সবটাই তদন্ত শুরু করেছে ধর্মশালার পুলিশ আধিকারিকরা। এই খবর মাটিয়ার নেহালপুরের সরদার পাড়ায় পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে পড়ে গ্রামে।
প্রত্যেকের বয়স ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

কেউ স্বামী আবার কেউ ছেলে হারিয়েছেন। আবার কেউ স্বামী বা নিকট আত্মীয় হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। গোটা গ্রামে শোকাচ্ছন্ন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিবহনের দক্ষিণবঙ্গের সচিব এটিএম আব্দুল্লাহ রনি, বসিরহাটের তৃণমূল নেতা কাজী মাহমুদ হাসান, মিহির ঘোষ ও রণ মল্লিকরা মৃতদের পরিবারের বাড়িতে  যান। তাদের সহানুভূতি সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। মৃতদেহ আনতে রওনা দিয়েছে মৃত পরিবারের লোকজন।