পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এতদিন টেট বা টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট উত্তীর্ণ হলে সেই শংসাপত্রের বৈধতা থাকত সাত বছর। ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাকরিপ্রার্থীদের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসতে হতো। যদি ওই সাত বছরের মধ্যে চাকরি না পাওয়া যেত, তবে পুনরায় টেট পরীক্ষায় বসতে হতো। এবার থেকে এই নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এখন থেকে একবার টেট সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারলেই তার বৈধতা থাকবে সারাজীবন। অর্থাৎ, যতদিন চাকরির বয়সসীমা থাকবে, ততদিন পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এই ঘোষণা করেছে, যা লক্ষ লক্ষ চাকরি প্রার্থীর জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।

আর সাত বছরের সীমাবদ্ধতা নয়, এখন থেকে আজীবন বৈধ থাকবে টেট সার্টিফিকেট। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল।

এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা ধরা হচ্ছে ২০১১ সাল থেকে। অর্থাৎ, ২০১১ সালে এবং তার পরবর্তী সময়ে যাঁরা টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের শংসাপত্রের বৈধতা আজীবন বহাল থাকবে।

উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার্স এডুকেশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষক নিয়োগের জন্য সব রাজ্যকে টেট পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী, টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। সেই পুরনো নিয়মে এবার বদল আনা হলো।

শিক্ষা মন্ত্রক টেট সার্টিফিকেট এর বৈধতা সাত বছর থেকে বাড়িয়ে আজীবন করে দিল। যার অর্থ, একবার টেট পাস করাই যথেষ্ট। এরপর থেকে চাকরির বয়সসীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসা যাবে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ২০১১ সালে যাঁরা টেট পরীক্ষা দিয়েছিলেন, সেই সময় থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। এমনকি যাঁদের টেট সার্টিফিকেট এর মেয়াদ ইতিমধ্যে পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁদের নতুন করে শংসাপত্র প্রদান করা হবে। এই মর্মে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে যাঁরা টেট উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং যাদের সার্টিফিকেটের বৈধতা শেষ হয়ে গিয়েছে, তাঁদের নতুন করে শংসাপত্র দেওয়া হবে, যা আজীবন কার্যকর থাকবে। ফলে তাঁদের আর নতুন করে টেট পরীক্ষায় বসার প্রয়োজন হবে না।