পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইন-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “তারা অসাধারণ কাজ করছে, আমরা আমাদের মিত্রদের কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেব না।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, অঞ্চলে মার্কিন কৌশলগত জোট ও সামরিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার দিকেই জোর দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
 
ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কথাও স্বীকার করেন।

তবে এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ইরান-কে দায়ী করে তিনি বলেন, ইরানের ‘সন্ত্রাসী হামলা’—বিশেষ করে তেল ট্যাঙ্কার ও আঞ্চলিক অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ—এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। যদিও তিনি আশ্বস্ত করেন, এই পরিস্থিতি সাময়িক।
 
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে বিশ্বাস করা যায় না।
তিনি সতর্ক করেন, ইরান যদি এমন অস্ত্র অর্জন করে, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি-র প্রসঙ্গে ট্রাম্প তেল আমদানিকারক দেশগুলোর প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “প্রণালীতে যাও এবং সেটিকে দখল করে সুরক্ষিত করো।” তিনি মনে করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকেই আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
 
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য একদিকে যেমন ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল, তেমনি অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ধরে রাখার বার্তাও বহন করছে।