পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: ২৮৮০ বর্গফুট আয়তনের কার্পেট বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগাল ২৫ কাশ্মীরি কারিগর। উত্তর কাশ্মীরের ওয়াইল নামক গ্রামের একদল যুবক মিলে এশিয়া তথা বিশ্বের বৃহত্তম কার্পেট বানিয়ে তাক লাগিয়েছে। ৭২ ফুট বাই ৪০ ফুট হাতে বোনা কাশ্মীরি কার্পেটটি ২৮৮০ বর্গফুটের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ফায়াজ আহমেদ শাহ এবং আবদুল গাফ্ফার শেখের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই কার্পেটটি বানাতে দীর্ঘ ৮ বছর সময় লেগেছিল। ২৫ এরও অধিক শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমের পরই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলেই খবর। এই বিষয়ে এক শ্রমিক জানান, পুরো কাশ্মীর তথা দেশে এমনকি বিশ্বে এই ধরণের কার্পেট বা গালিচা প্রথম।
এর আগে কাশ্মীর উপত্যকায় কখনও এত বড় কার্পেট তৈরি হয়নি। এটি আমাদের কাছে বিশাল বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি এই কাজ আমরা সম্পন্ন করতে পেরেছি। এবার এটা বিক্রির অপেক্ষায়। আমরা নিশ্চিত এই গালিচা বিশ্ব বাজারে চড়া দামে বিক্রি হবে। এই গালিচা সঠিকভাবে বিক্রি করতে পারলে আমরা ভবিষ্যতে এই ধরণের কার্পেট আবার বানাবো।আরও পড়ুন:

উল্লেখ্য, সুলতান জৈন-উল-আবেদীন কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য পারস্য এবং মধ্য এশিয়া থেকে কার্পেট তাঁতিদের কাশ্মীরে নিয়ে এসেছিলেন। সেই থেকে, কার্পেট বুননের শিল্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে। কাশ্মীরি কার্পেট সাধারণত প্রাচ্য এবং ফুলের নকশার দুটি বিভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন:
কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা কার্পেট ও পাটি সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। জটিল নকশানির্ভর এসব কার্পেট ও পাটি তৈরিতে প্রাচীন একটি সংকেত ব্যবহার করা হয়। তালিম নামে পরিচিত এই সংকেত শত শত বছর ধরে কার্পেটের নকশা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তাঁতিরা যুগের পর যুগ এই সংকেত ব্যবহার করে আসছেন।আরও পড়ুন:

কার্পেট সঠিকভাবে বুনতে নতুন তাঁতিদের পাঁচ বছর লেগে যায়। আর একেকটি কার্পেট সম্পন্ন করতে ছয় মাসের বেশি সময় লাগতে পারে। কার্পেট তৈরির প্রক্রিয়ার শুরুতে একজন ডিজাইনার নকশা আঁকেন। একজন তালিম সংকেত বিশেষজ্ঞ তখন সেই নকশার সংকেত পুনরুদ্ধার (এনকোড) করে বুননের জন্য পাঠান। এই সংকেত অনুসারে তাঁতিরা কোথায় গিঁট দেবেন আর কোন রং ব্যবহার করবেন, তা জানতে পারেন।
আরও পড়ুন: