পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বহু কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার হওয়া শিল্পপতি পবন রুইয়াকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল বিধাননগর মহকুমা আদালত। তদন্তকারীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত একাধিক অনলাইন প্রতারণার টাকা পবন রুইয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছিল। গোটা প্রতারণার অঙ্ক প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার নিউটাউনের একটি হোটেলের সামনে থেকে পবনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার তাঁকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৮ এপ্রিল।


আদালতে পবনের আইনজীবী বিবেক শর্মা দাবি করেন, গ্রেফতারের ক্ষেত্রে পুলিশ অপ্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এখন অধিকাংশ লেনদেনই অনলাইন মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং নানা ব্যাঙ্কিং অ্যাপ ব্যবহার করা হয়। ফলে অনেক সময়ই বোঝা যায় না কে কোন কারণে টাকা পাঠাচ্ছে। তাঁর মতে, কোনও সংস্থার অ্যাকাউন্টে যদি কয়েক লক্ষ টাকা জমা পড়ে, তা নিয়ে সবসময় পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে, সরকার পক্ষের আইনজীবী রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পবনের বিরুদ্ধে বড়সড় আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতারণার পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং এর বিস্তার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
তাই এই মামলার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলেই আদালতে সওয়াল করেন তিনি।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পবন রুইয়াকে সাত দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। পবনের আইনজীবীর ‘চার-সাড়ে চার লক্ষ টাকার’ তত্ত্বও আদালতে খারিজ করে দেন সরকার পক্ষের আইনজীবী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে বিধাননগরের ইকো পার্ক থানায় এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথম এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৩১৫ কোটি টাকার লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছিল।
পরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার অপরাধ দফতর পবন রুইয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। তদন্তের স্বার্থে পবনের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নথি উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। সেই সব তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে প্রতারণার অঙ্ক আরও বেড়ে প্রায় ৬০০ কোটিতে পৌঁছয় বলে দাবি পুলিশের।
এর আগে এই মামলায় আগাম জামিনের জন্য কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন পবন রুইয়া। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও শর্ত দেয় যে, জেলা আদালতে তাঁদের পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। তবে বুধবার ফের আদালতে পবনের পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং আদালতে পেশ করা হয়।