প্রথম দফার ভোটপর্ব শেষ হতেই আবারও তৎপর হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে শনিবার ভোর থেকে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া এলাকায় একাধিক চাল ব্যবসায়ীর বাড়ি ও দোকানে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর্থিক তছরুপের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই অভিযান বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, শনিবার সকালেই দক্ষিণ হাবড়ার সুভাষ রোড এলাকায় কয়েকজন চাল ব্যবসায়ীর দোকান ও বাড়িতে হানা দেয় ইডি। পার্থ সাহা, রাজীব সাহা এবং শ্রমিক চন্দ্র নামে তিন ব্যবসায়ীর দোকানে প্রথমে তল্লাশি শুরু হয়।

পাশাপাশি জয়গাছি নেতাজি রোড এলাকার আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর বাড়িতেও চলে তল্লাশি অভিযান। অভিযানে আর্থিক নথিপত্র, লেনদেনের হিসাব এবং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ইডি সূত্রে দাবি, যাঁদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, তাঁরা প্রত্যেকেই চাল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আর্থিক অনিয়ম এবং তছরুপ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তল্লাশি থেকে কী কী উদ্ধার হয়েছে বা কারও বিরুদ্ধে সরাসরি কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

শনিবার ভোরে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্স থেকে ইডির একাধিক দল রওনা দেয় হাবড়ার উদ্দেশে। এলাকায় পৌঁছে আধিকারিকরা আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়ে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের বাড়ি ও দোকানে পৌঁছে যান। তল্লাশি অভিযান যাতে নির্বিঘ্নে চলে, তার জন্য ইডির সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

ভোটের আবহে এই তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ইডির এই পদক্ষেপ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। যদিও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তদন্তের স্বার্থেই এই অভিযান এবং এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এর আগেও একাধিকবার ইডি ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পরই ফের হাবড়ায় চাল ব্যবসায়ীদের বাড়িতে তল্লাশি সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল। এখন দেখার, এই তল্লাশির তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে এবং তা রাজ্যের নির্বাচনী আবহে কতটা প্রভাব ফেলে।