পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বাংলার ধাঁচেই এবার উত্তরপ্রদেশ। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপির নির্বাচনী রণকৌশলের প্রধান সেনাপতির ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নির্বাচন পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কারও নাম ঘোষণা করা হলেও, ভোটের প্রস্তুতি, বুথ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সংগঠনের রাশ—সবকিছুই যে প্রত্যক্ষভাবে শাহের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। জানা গিয়েছে, চলতি মাসে ছটপুজো অর্থাৎ ১৫ নভেম্বরের পরই উত্তরপ্রদেশের ভোট প্রস্তুতি নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠকে বসবেন তিনি।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মূলত ত্রিমুখী কৌশল নিয়ে এগোতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান এবং অমিত শাহের নিপুণ সাংগঠনিক দক্ষতা—এই তিন হাতিয়ারেই ভোটের ময়দানে নামবে দল। শুধুমাত্র জাতপাতের সমীকরণে আটকে না থেকে, ২০১৭ সালের আগে ও পরের উত্তরপ্রদেশের তুলনামূলক চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির শাসনকালের নানা ঘটনা। ১৯৯৫ সালের গেস্ট হাউস কাণ্ড, ২০১৩ সালের মুজফফরনগর হিংসা থেকে শুরু করে মাফিয়া রাজ ও বেআইনি জমি দখলের মতো বিষয়গুলি বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রচারে ব্যবহার করা হবে। এর বিপরীতে, যোগী সরকারের আমলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, এক্সপ্রেসওয়ে ও বিমানবন্দর নির্মাণ, শিল্পে বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকগুলি তুলে ধরা হবে।

উন্নয়নের খতিয়ানের পাশাপাশি সামাজিক সমীকরণেও বিশেষ জোর দিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। পিছিয়ে পড়া শ্রেণি এবং দলিতদের মধ্যে সমাজবাদী পার্টি যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, তা মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। দলের প্রধান লক্ষ্য হল কৃষক, যুবক, মহিলা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো। এর পাশাপাশি রাজ্যে কর্মসংস্থান, চাকরিতে স্বচ্ছতা, পিএম-কিষান প্রকল্প এবং আখচাষিদের বকেয়া মেটানোর বিষয়গুলিও প্রচারের আলোয় নিয়ে আসা হবে।
সাংগঠনিক স্তরেও ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হতে চলেছে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ব্রজ, রোহিলখণ্ড, অবধ, বুন্দেলখণ্ড এবং পূর্বাঞ্চলে অঞ্চলভিত্তিক সভার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সাংসদ ও বিধায়ক থেকে শুরু করে নিচুতলার কর্মীদের এক ছাতার তলায় এনে বুথ কমিটি ও পান্না প্রমুখদের আরও বেশি সক্রিয় করে তোলাই অমিত শাহের অন্যতম প্রধান সাংগঠনিক লক্ষ্য।