যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নজরকাড়া সাফল্য পেলেন সংখ্যালঘু মুসলিম প্রার্থীরা। দেশটির কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অন্তত ৯৭ জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের (সিএআইআর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আরও এক ডজনের বেশি মুসলিম প্রার্থী ভোট গণনা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁরা আপাতত নিজ নিজ প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। ফলে বিজয়ীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এবারের নির্বাচনে মোট ১৬৮ জন মুসলিম প্রার্থী দলীয় প্রাথমিক বাছাই বা প্রাইমারির বাধা পেরিয়ে চূড়ান্ত নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন ওয়াশিংটন ডিসিতে যাচ্ছেন।

ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদে। তাঁরা হলেন ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব, আন্দ্রে কারসন, লতিফা সাইমন, আদম হামাউই এবং দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের। অন্যদিকে, আবদুলরহমান আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আগামী ছয় বছর সিনেটের দায়িত্ব পালন করবেন। ক্যালিফোর্নিয়ার চতুর্দশ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে আয়েশা ওয়াহাবও এগিয়ে ছিলেন, তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় তাঁর জয় তখনও নিশ্চিত হয়নি।

সিএআইআরের হিসাব অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে আরও ৩৯টি পদে মুসলিম প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কাউন্টি ও পৌরসভা পর্যায়ে নির্বাচিত হয়েছেন ১৬ জন।

শিক্ষা ও স্কুল বোর্ডে জয় পেয়েছেন ২৭ জন এবং বিচারক নির্বাচিত হয়েছেন আটজন।

এই সাফল্যের পেছনে মুসলিম ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত এক বছরে মুসলিম ভোটার নিবন্ধনের হার অন্তত ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত মুসলিম ভোটারদের ৯৩ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। সিএআইআরের জরিপ অনুযায়ী, তাঁদের ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন, বিপরীতে রিপাবলিকানদের ভোট দিয়েছেন মাত্র ৬ শতাংশ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম ভোটাররা শুধু দলীয় পরিচয় নয়, প্রার্থীদের নীতি ও অবস্থানকেও গুরুত্ব দিয়েছেন।

নির্বাচনে গাজা ও ফিলিস্তিনের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

সিএআইআরের জরিপে ৭৬ শতাংশ মুসলিম ভোটার ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৮০ শতাংশ জানিয়েছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তাঁদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো বিষয়ও তাঁদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির জয় মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে অংশ নিতে আরও উৎসাহিত হয়েছে। মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও বৈষম্যের ঘটনা বাড়ার মধ্যেও তাঁদের এই সাফল্য বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে মুসলিম প্রার্থীদের সবাই ডেমোক্র্যাট নন; রিপাবলিকান দল থেকেও মুসলিম প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংখ্যায় সংখ্যালঘু হলেও ভোটারদের সক্রিয়তা, স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও নীতিগত প্রশ্নে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করছেন তাঁরা।