পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ঘিরে তীব্র তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার শুনানি শুরু হতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী অতিরিক্ত সময় চান। এর বিরোধিতা করে কেন্দ্রের পক্ষের আইনজীবী জানান, মামলাটি আর পিছিয়ে দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র প্রশ্ন তোলেন, আগে থেকেই সময় দেওয়া হয়েছিল, তা সত্ত্বেও কেন এখনও জবাব জমা দেওয়া হয়নি। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, রেকর্ডে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই শুনানি চলবে।


 
শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে ইডির মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জানান, মামলাটি আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, তা আগে নির্ধারণ করা উচিত। আদালত তখন প্রশ্ন তোলে, একদিকে সময় চাওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আবার মামলার ভিত্তি নিয়েও আপত্তি জানানো হচ্ছে—রাজ্যের আসল অবস্থান কী, তা স্পষ্ট করতে বলা হয়। কেন্দ্রের পক্ষের আইনজীবী সময় চাওয়ার বিরোধিতা করে বলেন, অতিরিক্ত হলফনামা আগেই জমা দেওয়া হয়েছে, তাই শুনানি বিলম্বিত করার কোনও কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, একজন মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।

 
এরপর রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ইডির নিজস্ব কোনও মৌলিক অধিকার নেই, ফলে তার অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নও ওঠে না। তিনি আরও বলেন, এই মামলায় আসলে কেন্দ্রীয় সরকারই পক্ষ, তাই প্রশ্ন হচ্ছে—কোনও রাজ্য সরকার কি কেন্দ্রের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে? শ্যাম দিওয়ান আরও দাবি করেন, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের শুনানির জন্য অন্তত পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করা প্রয়োজন। এই মামলার শুনানিতে উঠে আসা প্রশ্নগুলো শুধু আইপ্যাক মামলার সীমায় আটকে নেই, বরং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিধি নিয়েও নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।