পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ডিজিট্যাল অপরাধ ও ‘ডিজিট্যাল অ্যারেস্ট’-এর মতো প্রতারণা ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। এবার সব স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলকভাবে ইনস্টল করতে হবে সরকারি সাইবার নিরাপত্তা অ্যাপ ‘সঞ্চার সাথী’। ২৮ নভেম্বর বড় বড় স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থাগুলিকে কেন্দ্রীয় টেলিকমিউনিকেশন দপ্তর নির্দেশ দিয়েছে—ফোন তৈরির সময়ই প্রি-ইনস্টল রাখতে হবে এই অ্যাপ। আগামী ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই কার্যকর করতে হবে এই প্রক্রিয়া। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই অ্যাপ চাইলেও আনইনস্টল করা যাবে না।

বাজারে ইতিমধ্যেই থাকা ফোনেও সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে অ্যাপটি ঢুকে পড়বে।

সরকারের দাবি, নকল IMEI–যুক্ত ফোন, চুরি যাওয়া ডিভাইস ও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত মোবাইল সনাক্ত করতে ‘সঞ্চার সাথী’ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চালুর পর অ্যাপটির সাহায্যে ৭ লক্ষেরও বেশি ফোন উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই নির্দেশকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধীরা। পেগাসাস বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে তাঁদের অভিযোগ, সুরক্ষার নামে এটি আসলে নজরদারির নতুন হাতিয়ার।
তৃণমূলের সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “এটা আগ্রাসী ফ্যাসিবাদী মনোভাব, নজরদারি কায়েমের চেষ্টা।” কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপালের অভিযোগ, “নাগরিকের প্রতিটি পদক্ষেপ ও কথোপকথনে নজরদারির প্রয়াস।” প্রযুক্তি-আইন বিশেষজ্ঞদেরও উদ্বেগ রয়েছে। ইন্টারনেট অধিকারকর্মী মিশি চৌধুরীর মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীর সম্মতিকে অর্থহীন করে দিচ্ছে। রাশিয়া ‘ম্যাক্স’ অ্যাপ বাধ্যতামূলক করায় যেমন সমালোচিত হয়েছিল, ভারতের ক্ষেত্রেও সেই বিতর্ক নতুন করে উসকে উঠেছে। এখন নজর সকলেরই,অ্যাপল-সহ বড় সংস্থাগুলি এই নির্দেশে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সাধারণ মানুষের ডিজিটাল গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত থাকে।