পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ জীবন এই রকমও হয়। কারণ এই ঘটনা শুনলে তাজ্জব হয়ে যেতে হবে মানুষকে। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা যেখানে পড়াশোনা করে ভালো চাকরি নিয়ে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চায় সেখানে মেদিনীপুরের এই যুবকের স্বপ্ন বড় হয়ে চোর হওয়া। হয়েছেনও তাই। নিজেকে পাকা চোরে পরিণত করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ১৭০টি চুরির কৃতিত্ব রয়েছে ইংরেজিতে মাস্টার্স এই যুবকের। চোরের বায়োডেটা দেখে তাজ্জব পুলিশ। ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছেন। বাবা চেয়েছিলেন ছেলে সৎ উপায়ে রোজগার করে নিজের জীবন গড়ে তুলবে। রেলে চাকরিও শুরু করেন। কিন্তু চাকরি করতে ভালো লাগেনি।
উল্টে চুরি করাই তার পছন্দের বিষয়। ছোটবেলায় মায়ের গয়না চুরি করে হাত পাকিয়েছেন। পরে মহাবিদ্যায় পারদর্শী করে তুলেছেন নিজেকে। বর্তমানে চুরিই পেশা তার। ১৭০ টা চুরিও সেরে ফেলেছে শিক্ষিত এই চোর। ছেলের এই কীর্তিকলাপে অপমানে আত্মঘাতী হয়েছেন তার মা।

সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বিদ্যুৎ দফতরের এক কর্মীর একটি ফ্ল্যাট থেকে তিন লক্ষাধিক টাকার গয়না চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হন এই শিক্ষিত চোর। ধৃতের নাম সৌমাল্য চৌধুরী। বাড়ি আসানসোলে। ধৃত যুবকের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে চোখ কপালে ওঠার যোগাড় পুলিশের।

ঘাটালের একটি আবাসনে মহাশ্বেতা দে নামে এক বিদ্যুৎ দফতরের কর্মী থাকেন।
গত ৩ জানুয়ারি তাঁর আবাসনে চুরির ঘটনা ঘটে। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নামে পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থেকে ঘাটাল থানার ওসি দেবাংশু ভৌমিক -এর নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে পাকড়াও করে চোরকে। তার পরেই জানা যায় এই চোর খুব একটা ‘সাধারণ চোর নয়’। ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছে সে। ধৃতকে  সৌমাল্য চৌধুরী সোমবার ঘাটাল আদালতে তোলা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে।

ঘাটালের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অগ্নিশ্বর চৌধুরী বলেন, ‘এমন অদ্ভুত শখ বা পেশা বেছে নেওয়া দেখে অবাক হয়েছি।  ইংরেজিতে মাস্টার ডিগ্রি করেছেন উনি। গত বছর হাওড়ায় এক চুরির ঘটনায় ধরা পড়ার পর তাঁর চাকরি চলে যায়।
ভদ্র পরিবারের ছেলে। ছেলে চোর হয়েছে জেনে মা আত্মহত্যা করেছেন। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

জানা গেছে, অত্যন্ত স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে সৌমাল্য চৌধুরী। বাবা পূর্ত দফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। বাড়ির একমাত্র সন্তান সৌমাল্যও আসানসোলেই থাকতেন। ইংরেজিতে মাস্টার্স করার খড়্গপুরে রেলের একটি অস্থায়ী কাজ শুরু করে সৌমাল্য। কিন্তু কোনওদিনই ১০-৫ টা ডিউটি ভালো লাগত না তার। তাই নিজের পছন্দের পেশা হিসেবে চুরি করাইকে বেছে নেয় সে।

পুলিশকে সৌমাল্য জানিয়েছে, আসানসোলে বাড়ির উল্টো দিকের এক ফুল দোকানির কাছে চুরির শিক্ষা নেন। তার পর একের পর এক চুরি। চাকরিও খোয়া গেছে এই কারণে। কিন্তু তাতে কোনও দুঃখ নেই এই শিক্ষিত যুবকের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লেপ্টোমেনিয়া নামক মানসিক ব্যধির শিকার হতে পারে সৌমাল্য।