পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: চপার ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি সহ বিমানের সব যাত্রীর। মারা গিয়েছেন চপারে রইসির সহযাত্রী তথা সে দেশের বিদেশমন্ত্রী হোসেন আমিরাবদোল্লাহিয়ানও। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তেহরান। ঘটনায় শোকজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
আরও পড়ুন:
এক্স হ্যান্ডেলে মোদি বলেন, 'এই দুঃখের সময়ে ভারত ইরানের পাশে রয়েছে। ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট রইসির বেদনাদায়ক মৃত্যুতে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে তাঁর অবদান সর্বদা মনে থাকবে। তাঁর পরিবার এবং ইরানের মানুষকে আমি আমার অন্তরের সমবেদনা জানাই।
Deeply saddened and shocked by the tragic demise of Dr. Seyed Ebrahim Raisi, President of the Islamic Republic of Iran. His contribution to strengthening India-Iran bilateral relationship will always be remembered. My heartfelt condolences to his family and the people of Iran.…
— Narendra Modi (@narendramodi) May 20, 2024
আরও পড়ুন:
রবিবারই খবর আসে, পর্বতে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়েছে রইসির চপার। ওই চপারেই ছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। ইরান প্রশাসনের এক শীর্ষ পদাধিকারী সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, একটি পার্বত্য অঞ্চল পার হয়ে যাওয়ার পর, চপারটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। কোনও খোঁজ মিলছিল না। প্রবল বৃষ্টি আর ঘন কুয়াশার জন্য দুর্ঘটনাস্থলে দৃশ্যমানতা খুব কম ছিল বলেও জানান ওই সরকারি আধিকারিক। সেই সরকারি আধিকারিককে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং সে দেশের বিদেশমন্ত্রীর অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’।
আরও পড়ুন:
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রইসি আজারবাইযান সফরে যাচ্ছিলেন, সঙ্গী ছিলেন বিদেশমন্ত্রী।
যেখানে দুর্ঘটনাস্থলটি আজারবাইজানের সীমান্তে অবস্থিত শহর জোলফার কাছাকাছি। জায়গাটি ইরানের রাজধানী থেকে অন্তত ৬০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।আরও পড়ুন:
রিপোর্ট অনুযায়ী, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথভাবে সীমান্ত এলাকায় একটি বাঁধ উদ্বোধনের পর তেহরানে ফিরছিলেন রাইসি এবং আমিরাবদোল্লাহিয়ান। তখন উড়ান শুরুর ৩০ মিনিট বাদে ঘন মেঘের মাঝে নিখোঁজ হয়ে যায় রাইসির কপ্টারটি। প্রেসিডেন্টের সেই কনভয়তে মোট তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। এর মধ্যে বাকি দুটি হেলিকপ্টার অবশ্য সুরক্ষিত ছিল। সেই দুর্ঘটনার পরই উদ্ধারকারী দল পার্বত্য এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। খারাপ আবহাওয়া ও তুষারপাতের জন্য উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।
পরে উদ্ধারকাজে পাশে দাঁড়ায় রাশিয়া।আরও পড়ুন:
বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল সহ হেলিকপ্টার পাঠিয়েছিল মস্কো। পরে ইরানের রেড ক্রেসান্টের প্রধান জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির হেলিকপ্টারের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধারকারী দল সেই দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। পরে ইরানের সংবাদমাধ্যম জানায়, ভেঙে পড়া হেলিকপ্টারে কারও বেঁচে থাকার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পাহাড়ে ভেঙে পড়ার পরে চপারটিতে আগুন ধরেছিল। তুরস্কের ড্রোনের সাহায্যে পাহাড়ের মাঝে জ্বলন্ত দেখা যায়। সেখানে গিয়েই সেই কপ্টারের অবশেষ অংশটি চিহ্নিত করা যায়।