পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর  প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে দাবি উঠেছিল, রাজ্যে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী থাকার কারণে ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ যেতে পারে। সেই দাবি তুলেছিল বিজেপি। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাংলায় নাম বাদ গেলেও একই প্রক্রিয়ায় বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চালুর ঘোষণা করেছিল। ধাপে ধাপে সেই সব রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ১২ রাজ্য মিলিয়ে মোট ভোটারের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫ কোটি ১৮ লক্ষ। সংশোধন প্রক্রিয়ায় মোট বাদ পড়েছেন ৬ কোটিরও বেশি ভোটার, যদিও পরে নতুন করে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে এই ১২ রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ কোটি ৯৭ লক্ষ। সংশোধনের পর সেই সংখ্যা আপাতত নেমে এসেছে প্রায় ৪৫ কোটি ৮১ লক্ষে। অর্থাৎ মোট ভোটারের ১০ শতাংশেরও বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাদ পড়া ৫ কোটিরও বেশি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৬ লক্ষ ৮৮ হাজারকে মৃত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এত বিপুল সংখ্যক মৃত ব্যক্তির নাম এতদিন ভোটার তালিকায় কীভাবে ছিল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ১৬টি জেলায় ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে ওই ১৬ জেলায় মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৮০১ জন। সংশোধনের পরে চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১-এ। অর্থাৎ প্রায় ৩৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোটার কমেছে।

নতুন তালিকায় মোট বাদ গিয়েছে ৪০ লক্ষেরও বেশি নাম, যদিও একই সময়ে প্রায় ৩ লক্ষের বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন।

এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদি এত বিপুল সংখ্যক ভোটার সত্যিই অযোগ্য বা ভুয়ো হয়ে থাকেন, তাহলে এতদিন তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় কীভাবে ছিল? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী রাজনৈতিক মহল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই একই ভোটার তালিকা ব্যবহার করেই ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ফলে সংশোধনের পরে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।