০৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্মগুরুকে ‘গার্ড অফ অনার’ পুলিশের, যোগী সরকারকে তোপ অখিলেশ-চন্দ্রশেখরের

পুবের কলম, লখনউ: যোগী রাজ্যে এক ধর্মগুরুকে ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়েছে পুলিশ। চাকরিপ্রার্থীরা পুলিশ পদে চাকরি পাওয়ার পর ধর্মগুরুকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়েছে। ঘটনার ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে যোগী সরকার। ইতিমধ্যে চাপের মুখে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের পুলিশ প্রধান রাজীব কৃষ্ণ। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বাহরাইচে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, “স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ডটি অবশ্যই নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র পুলিশ প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করতে হবে। এই নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।”

ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, বাহরাইচের পুলিশ সুপার আর এন সিং এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীরা তাঁর সামনে রেড কার্পেট বিছিয়ে ধর্মগুরু গোস্বামীকে স্বাগত জানান। ধর্মগুরুর পাশে দাঁড়িয়ে এসপি নতুন পুলিশ কর্মীদের কাছ থেকে স্যালুট গ্রহণ করছেন। ধর্মগুরুকে রেড কার্পেটে পেতে অভ্যর্থনা, কুচকাওয়াজ এবং স্যালুট দেওয়া নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং আজাদ সমাজ পার্টির সভাপতি তথা সাংসদ চন্দ্রশেখর। পরে চাপের মুখে গোটা ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দেয় পুলিশ। বাহরাইচ পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ প্রশিক্ষণের সময় তীব্র মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে সৃষ্ট বিষণ্ণতার কথা উল্লেখ করে ২৮ জন প্রশিক্ষণার্থী পদত্যাগ করেছিলেন। তাদের জন্য কাউন্সেলিং, ধ্যান ও যোগব্যায়াম কর্মশালার আয়োজনের জন্য আচার্য পুন্ডরীক গোস্বামীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পুলিশের দাবি, গোস্বামীর দেওয়া ভাষণটি নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য ‘সহায়ক’ ছিল। কারণ ধর্মগুরুর ভাষণ তাদের মানসিক চাপ কমিয়েছে এবং দায়িত্বের প্রতি তাদের আত্মবিশ্বাস ও নিষ্ঠা তৈরিতে সাহায্য করেছে।

আরও পড়ুন: ইরানে ধর্মীয় নেতাকে হত্যা

এদিকে গোটা ঘটনা নিয়ে যোগী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন, ব্যাপক অপরাধ এবং মাফিয়া শাসনের মধ্যে সরকার স্যালুট খেলায় ব্যস্ত। এ বিষয়ে কেউ আমলে নেবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। লোকসভার সাংসদ চন্দ্রশেখর এই ঘটনাকে সংবিধানের উপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, স্যালুট এবং প্যারেড সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

আরও পড়ুন: থাইল্যাণ্ডে গ্রেফতার স্বঘোষিত ‘ধর্মগুরু’

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

বসন্তে এসেছে গাছে গাছে আমের মুকুল রাউ ডন স্ট্রিটে

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ধর্মগুরুকে ‘গার্ড অফ অনার’ পুলিশের, যোগী সরকারকে তোপ অখিলেশ-চন্দ্রশেখরের

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার

পুবের কলম, লখনউ: যোগী রাজ্যে এক ধর্মগুরুকে ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়েছে পুলিশ। চাকরিপ্রার্থীরা পুলিশ পদে চাকরি পাওয়ার পর ধর্মগুরুকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়েছে। ঘটনার ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে যোগী সরকার। ইতিমধ্যে চাপের মুখে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের পুলিশ প্রধান রাজীব কৃষ্ণ। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বাহরাইচে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, “স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ডটি অবশ্যই নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র পুলিশ প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করতে হবে। এই নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।”

ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, বাহরাইচের পুলিশ সুপার আর এন সিং এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীরা তাঁর সামনে রেড কার্পেট বিছিয়ে ধর্মগুরু গোস্বামীকে স্বাগত জানান। ধর্মগুরুর পাশে দাঁড়িয়ে এসপি নতুন পুলিশ কর্মীদের কাছ থেকে স্যালুট গ্রহণ করছেন। ধর্মগুরুকে রেড কার্পেটে পেতে অভ্যর্থনা, কুচকাওয়াজ এবং স্যালুট দেওয়া নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং আজাদ সমাজ পার্টির সভাপতি তথা সাংসদ চন্দ্রশেখর। পরে চাপের মুখে গোটা ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দেয় পুলিশ। বাহরাইচ পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ প্রশিক্ষণের সময় তীব্র মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে সৃষ্ট বিষণ্ণতার কথা উল্লেখ করে ২৮ জন প্রশিক্ষণার্থী পদত্যাগ করেছিলেন। তাদের জন্য কাউন্সেলিং, ধ্যান ও যোগব্যায়াম কর্মশালার আয়োজনের জন্য আচার্য পুন্ডরীক গোস্বামীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পুলিশের দাবি, গোস্বামীর দেওয়া ভাষণটি নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য ‘সহায়ক’ ছিল। কারণ ধর্মগুরুর ভাষণ তাদের মানসিক চাপ কমিয়েছে এবং দায়িত্বের প্রতি তাদের আত্মবিশ্বাস ও নিষ্ঠা তৈরিতে সাহায্য করেছে।

আরও পড়ুন: ইরানে ধর্মীয় নেতাকে হত্যা

এদিকে গোটা ঘটনা নিয়ে যোগী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন, ব্যাপক অপরাধ এবং মাফিয়া শাসনের মধ্যে সরকার স্যালুট খেলায় ব্যস্ত। এ বিষয়ে কেউ আমলে নেবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। লোকসভার সাংসদ চন্দ্রশেখর এই ঘটনাকে সংবিধানের উপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, স্যালুট এবং প্যারেড সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

আরও পড়ুন: থাইল্যাণ্ডে গ্রেফতার স্বঘোষিত ‘ধর্মগুরু’