মহিলা  সংরক্ষণ আইন সংশোধন এবং এর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার জন্য নরেন্দ্র মোদি  সরকার বিধানসভা নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১৬ই এপ্রিল একটি সংক্ষিপ্ত অধিবেশনের জন্য সংসদ পুনরায় ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ৮১৬ করার এবং এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব করেছে। সূত্র জানিয়েছে, সরকার দুটি সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে একটি সাংবিধানিক এবং বিরোধী দলের সমর্থন ছাড়া তা পাস করা যাবে না।মহিলাদের  সংরক্ষণ আইন সংশোধন এবং এর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার জন্য নরেন্দ্র মোদি  সরকার বিধানসভা নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১৬এপ্রিল একটি সংক্ষিপ্ত অধিবেশনের জন্য সংসদ পুনরায় ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ৮১৬ করার এবং এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব করেছে। সূত্র জানিয়েছে, সরকার দুটি সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে একটি সাংবিধানিক এবং বিরোধী দলের সমর্থন ছাড়া তা পাস করা যাবে না।
বিজেপি ভোটারদের অনুভূতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে এবং নির্বাচনী আচরণবিধিও লঙ্ঘন করতে পারে—বিরোধীদের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু  রাজ্যসভাকে জানান যে, সরকার আগামী “দুই থেকে তিন সপ্তাহের” মধ্যে আইনটিতে সংশোধনী আনতে চায়।
যদিও রিজু সংসদ পুনরায় কবে বসবে তার সঠিক তারিখ জানাননি, দিনের শেষে উভয় কক্ষই ১৬ এপ্রিল পুনরায় বসার জন্য মুলতবি করা হয়।

বৃহস্পতিবার ছিল বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিন, যা সাধারণত জুলাই মাসের মাঝামাঝি বর্ষাকালীন অধিবেশন পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি করা হয়।অসম , কেরালা ও পুদুচেরিতে নির্বাচন ৯ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ ২৩ ও ২৯ এপ্রিল এবং তামিলনাড়ুতে ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে।সরকার ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ আইন প্রণয়ন করেছিল, যার মাধ্যমে বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এর বাস্তবায়নকে পরবর্তী আদমশুমারি এবং তার পরবর্তী সীমানা পুনর্নির্ধারণের সাথে যুক্ত করা হয়েছিল। এখন সরকার ২০১১ সালের আদমশুমারির উপর ভিত্তি করে এর বাস্তবায়ন করার জন্য আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব করছে। তাদের যুক্তি হলো, ১লা এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া চলমান আদমশুমারির উপর নির্ভর করলে এর বাস্তবায়ন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরেও বিলম্বিত হতে পারে।
উচ্চকক্ষে রিজিজুর এই জবাব আসে কংগ্রেস সদস্য জয়রাম রমেশের এক প্রশ্নের জবাবে। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, বাজেট অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হবে, নাকি কিছু সময় পর তা পুনরায় শুরু হবে, যার জন্য একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।

“আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে যাচ্ছি। আজ সরকার সংসদ মুলতবি করার প্রস্তাব দেবে এবং আমরা খুব শীঘ্রই একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈঠকে বসব,” নারী সংরক্ষণ বিলের কথা উল্লেখ করে রিজু জবাব দেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে বিরোধী দল এ বিষয়ে অবগত আছে।
তবে রমেশ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একটি বিল পাস করার মাধ্যমে কিছু রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করাই সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য। এটি সম্পূর্ণ আপত্তিকর।”
রিজিজু নারী ক্ষমতায়নের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদ্বেগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এই দেশের নারীদের প্রতি সংসদের একটি দায়িত্ব রয়েছে এবং আমাদের অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পালন করতে হবে।

তিনি দাবি করেছেন যে বিলটিতে কোন “বিতর্কিত ও আপত্তিকর” বিষয় নেই। “তবুও, বিরোধী দলগুলো এই বিল নিয়ে রাজনীতি করছে। ২০২৯ সালে সাধারণ নির্বাচন আসছে। আজ আমরা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আছি। তাই আসুন আমরা তারিখ নিয়ে কথা না বলি। অনুগ্রহ করে সরকারকে সহযোগিতা করুন,” ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে সংরক্ষণ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়ে রিজিজু বিধানসভায় একথা বলেন।
রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খার্গে বলেছেন, তাঁরা মহিলা  সংরক্ষণের বিরুদ্ধে নন। সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে খার্গে বলেন, “তবে, এটি আনার জন্য সরকারের তারিখ ও সময় বেঁধে দেওয়া বন্ধ করা উচিত।”